মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই, উৎকণ্ঠায় হাজারো মানুষ
টানা কয়েক দিনের বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল থেকে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বন্যার সম্ভাবনা বিবেচনায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পরশুরাম পৌরসভাসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পরশুরাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়াত আক্তার নূর স্বাক্ষরিত ঘোষণায় জানানো হয়, টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপে যে কোনো সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ১০ দশমিক ৬৬ মিটার, যা বিপৎসীমার (১২ দশমিক ৫৫ মিটার) প্রায় ১ দশমিক ৮৯ মিটার নিচে ছিল। শুক্রবার সকালে পানি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৮১ মিটারে নেমে এলেও দুপুরের পর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু ক
টানা কয়েক দিনের বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল থেকে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বন্যার সম্ভাবনা বিবেচনায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পরশুরাম পৌরসভাসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পরশুরাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়াত আক্তার নূর স্বাক্ষরিত ঘোষণায় জানানো হয়, টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপে যে কোনো সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ১০ দশমিক ৬৬ মিটার, যা বিপৎসীমার (১২ দশমিক ৫৫ মিটার) প্রায় ১ দশমিক ৮৯ মিটার নিচে ছিল। শুক্রবার সকালে পানি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৮১ মিটারে নেমে এলেও দুপুরের পর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৪টায় পানির স্তর দাঁড়ায় ১১ দশমিক ০৫ মিটারে, যা বিপৎসীমার প্রায় ১ দশমিক ৫০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, এবার পানির বৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম। কয়েক দিন ধরে পানি বাড়লেও শুরুতে এর গতি ছিল ধীর, তাই আপাতত বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা কম। তবে শুক্রবার বিকেল থেকে পানি দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, গত বছর মুহুরী নদীর বাঁধের ৪২টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সেসব স্থানসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। তবে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভাঙা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার 'মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)' দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরশুরাম উপজেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুত ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
What's Your Reaction?