মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি: ফের বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফিরে এসে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে গত বছরের মতো আবারও বেড়িবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।  বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে মুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে আরও দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের অলকা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বলেন, “গত বছর পরপর দুই দফা বন্যায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবার যদি বন্যা আসে, তাহলে ভবি

মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি: ফের বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফিরে এসে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে গত বছরের মতো আবারও বেড়িবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। 

বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে মুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে আরও দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের অলকা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বলেন, “গত বছর পরপর দুই দফা বন্যায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবার যদি বন্যা আসে, তাহলে ভবিষ্যতে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

একই ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী বলেন, “গত বছরের জুলাইয়ের বন্যার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরও এখনো নতুন করে নির্মাণ করতে পারিনি। আজ সকাল থেকে নদীর পানি বাড়তে দেখে স্বজনরা বারবার ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “গত বছর দুই দফা বন্যায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪৩টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এরপর প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও টিউবের মাধ্যমে ৪৩টি স্থানে স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারে আরও ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এই মুহূর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, “আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভারতের উজানেও টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।”

তিনি জানান, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪৩টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে ২০২৪ সালের ২০ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায়ও উপজেলার তিনটি নদীর বাঁধ ভেঙে ফেনীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সড়ক, সেতু-কালভার্ট, ফসলি জমি ও অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং নদীগর্ভে বিলীন হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow