মৃত্যুর পরও যে আমলের সওয়াব লেখা হয়

মানুষের জীবন যেন শেষ না হওয়া এক দৌড়—সম্পদ, মর্যাদা আর সাফল্যের পেছনে। কে কত টাকা উপার্জন করল, কার বাড়ি কত বড়, কার সন্তান কতটা এগিয়ে—এই হিসাব-নিকাশে আমরা প্রায়ই জীবনের আসল লক্ষ্য ভুলে যাই। অথচ কুরআন আমাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে—“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফিল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে পৌঁছাও।” (সূরা তাকাসুর: ১–২) এই পৃথিবী চিরকাল থাকার জায়গা নয়। মৃত্যু নিঃশব্দে এসে যায়, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই। ধন-সম্পদ, খ্যাতি, প্রিয়জন—সবকিছুই রেখে মানুষকে বিদায় নিতে হয়। আল্লাহ তাআলা স্মরণ করিয়ে দেন, “প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” মৃত্যুর সময় কখন আসবে, কেউ জানে না। তাই সুযোগ থাকতে তওবা, ইবাদত ও নেক আমলে মনোযোগী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সাধারণ আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাসূল (সা.) বলেছেন ‘মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি আমল ব্যতীত : সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে’। (সহিহ মুসলিম)। এ আমলগুলোকে বলা হয় সদকায়ে জারিয়া যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। যেমন-কেউ যদি দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়, কুরআন

মৃত্যুর পরও যে আমলের সওয়াব লেখা হয়

মানুষের জীবন যেন শেষ না হওয়া এক দৌড়—সম্পদ, মর্যাদা আর সাফল্যের পেছনে। কে কত টাকা উপার্জন করল, কার বাড়ি কত বড়, কার সন্তান কতটা এগিয়ে—এই হিসাব-নিকাশে আমরা প্রায়ই জীবনের আসল লক্ষ্য ভুলে যাই। অথচ কুরআন আমাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে—“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফিল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে পৌঁছাও।” (সূরা তাকাসুর: ১–২)

এই পৃথিবী চিরকাল থাকার জায়গা নয়। মৃত্যু নিঃশব্দে এসে যায়, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই। ধন-সম্পদ, খ্যাতি, প্রিয়জন—সবকিছুই রেখে মানুষকে বিদায় নিতে হয়। আল্লাহ তাআলা স্মরণ করিয়ে দেন, “প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।”

মৃত্যুর সময় কখন আসবে, কেউ জানে না। তাই সুযোগ থাকতে তওবা, ইবাদত ও নেক আমলে মনোযোগী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সাধারণ আমলনামা বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাসূল (সা.) বলেছেন ‘মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি আমল ব্যতীত : সদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে’। (সহিহ মুসলিম)। এ আমলগুলোকে বলা হয় সদকায়ে জারিয়া যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে।

যেমন-কেউ যদি দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়, কুরআন শেখায়, কিংবা কাউকে আল্লাহর পথে উদ্বুদ্ধ করে, তবে সেই ইলম থেকে যত মানুষ উপকৃত হবে, ততদিন সে সওয়াব পেতে থাকবে। কেউ কূপ খনন করলে, গাছ লাগালে, মসজিদ নির্মাণ করলে বা কুরআনের কপি রেখে গেলে, এসব থেকেও কিয়ামত পর্যন্ত সওয়াব জারি থাকে। নেক সন্তানও বাবা-মায়ের জন্য সদকায়ে জারিয়া; কারণ তার দোয়া ও নেক আমলের সওয়াব তারাও পেয়ে থাকেন।

যেদিন মানুষ একাকী কবরে যাবে, সেদিন এ আমলগুলোই হবে প্রকৃত সম্বল। তাই জীবন থাকতে সদকায়ে জারিয়ার কাজগুলোতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আল্লাহতায়ালা মানুষকে চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং কোন পথে শান্তি ও মুক্তি তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন সমাজে নেমে আসে অবক্ষয়, অন্যায়, দুর্নীতি, শোষণ ও অশান্তি। এ অন্ধকার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) প্রদর্শিত পথে ফিরে আসা।

মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। প্রশ্ন হলো মৃত্যুর পর আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে? তাই এখনই সময় এমন আমল করা, যার আলো কবর থেকে শুরু হয়ে জান্নাত পর্যন্ত আমাদের পথ দেখাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow