মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বাদে মার্জিন ঋণ বিধিমালা, পুঁজিবাজার কি লাইফ সাপোর্টে!
কোনো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। শিল্পায়ন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি এই বাজার। কিন্তু বাংলাদেশে পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, অস্থিরতা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি সংস্কারের নামে প্রণীত মার্জিন ঋণ বিধিমালা-২০২৫ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, বিধিমালার কিছু ধারা পুঁজিবাজারকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ১০ নম্বর ধারার কিছু বিধান বাজারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ধারার উপধারা (১) ও (৩) অনুযায়ী মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে ‘মার্জিন যোগ্য সিকিউরিটিজ’ হিসেবে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের শেয়ারকে বিবেচনায় আনা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে শেয়ারের এ বা বি গ্রুপের মতো শ্রেণিবিন্যাস সাধারণত দেখা যায় না। ফলে এ ধরনের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সাধারণত দুই ধরনের-ইকুইটি ইস্যু ও ডেবিট ইস্যু। কিন্তু সংশোধিত বিধিমালায় সিকিউরিটিজের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউ
কোনো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। শিল্পায়ন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি এই বাজার। কিন্তু বাংলাদেশে পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, অস্থিরতা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি সংস্কারের নামে প্রণীত মার্জিন ঋণ বিধিমালা-২০২৫ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, বিধিমালার কিছু ধারা পুঁজিবাজারকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ১০ নম্বর ধারার কিছু বিধান বাজারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ধারার উপধারা (১) ও (৩) অনুযায়ী মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে ‘মার্জিন যোগ্য সিকিউরিটিজ’ হিসেবে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের শেয়ারকে বিবেচনায় আনা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে শেয়ারের এ বা বি গ্রুপের মতো শ্রেণিবিন্যাস সাধারণত দেখা যায় না। ফলে এ ধরনের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ সাধারণত দুই ধরনের-ইকুইটি ইস্যু ও ডেবিট ইস্যু। কিন্তু সংশোধিত বিধিমালায় সিকিউরিটিজের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড মার্জিন যোগ্য তালিকার বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই রেশিও)। এটি বিনিয়োগকৃত অর্থ কত সময়ের মধ্যে ফেরত আসবে তার একটি ধারণা দেয়। এই সূচকের দিক থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
একটি কোম্পানি যে কোনো সময় লোকসানে পড়তে পারে এবং চরম অবস্থায় ব্যাবসা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। কিন্তু মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট প্রতি সম্পদমূল্য বা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পান।
এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন-যেখানে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন এই খাতকে মার্জিন যোগ্য তালিকার বাইরে রাখা হবে?
পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে মার্জিন যোগ্য সিকিউরিটিজের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা এবং তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।
অন্যথায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আস্থা আরও কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।