মেয়াদোত্তীর্ণ ডিওতে খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত উপকারভোগীরা
ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য গুদামে পড়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের নামে চাল উত্তোলনের জন্য ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ইস্যু করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা উত্তোলন না করায় ডিওগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ চাল সরকারি গুদামেই আটকা পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন চাল গুদামে পড়ে থাকায় একদিকে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে চালের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীরাও সময়মতো সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ডিও ইস্যু করা হয়। তবে ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫ টন চাল এখনো গুদামে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ মাস, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৩ মাস, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের ৪ মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১ মাস এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের ভিজিডি চাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্
ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য গুদামে পড়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের নামে চাল উত্তোলনের জন্য ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ইস্যু করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা উত্তোলন না করায় ডিওগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ চাল সরকারি গুদামেই আটকা পড়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন চাল গুদামে পড়ে থাকায় একদিকে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে চালের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীরাও সময়মতো সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ডিও ইস্যু করা হয়। তবে ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫ টন চাল এখনো গুদামে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ মাস, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৩ মাস, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের ৪ মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১ মাস এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের ভিজিডি চাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ১০ টন, সোনাপুর ইউনিয়নের ৭৫ টন, চাঁচড়া ইউনিয়নের ১৪ টন, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের ৬ দশমিক ৫০ টন এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৪ টন চাল এখনো গুদামে পড়ে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল গুদামে আটকা রয়েছে।
জানা গেছে, সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের শেষ সময়সীমা ছিল গত ৩১ মে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এসব চাল এখনো গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়নি। এতে নতুন সরকারি বরাদ্দের চাল সংরক্ষণ এবং চলমান ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে বিপাকে পড়েছে গুদাম কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন চাল গুদামে পড়ে থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় চালের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন চাল সংরক্ষণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে তা সময়মতো বিতরণ নিশ্চিত করা হয় না।
চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়। কিন্তু বাস্তবে টনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। পরিবহন ব্যয়ের সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গুদাম থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করছি দ্রুত একটি সমাধান হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানামতে ডিও হওয়া সব চাল বিতরণ শেষ হয়েছে। তবুও যদি পরিবহন ব্যয়ের কারণে কোনো ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কাছাকাছি স্থানে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, ডিও হওয়া চাল উত্তোলনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও দপ্তরগুলোকে নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছি। তারা চাল না নিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গুদামে রাখার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সব চাল যত দ্রুত সম্ভব গুদাম থেকে বের করে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
What's Your Reaction?