মেয়ে হওয়ায় যমজ শিশুকে হত্যা, বাবা-চাচা-দাদা-দাদি গ্রেপ্তার
সন্তানের জন্য মানুষের আকুতির যেন শেষ নেই। তবে এবার সামনে এসেছে একটি রোমহর্ষক ঘটনা। মেয়ে হওয়ায় যমজ শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবা-চাচা-দাদা-দাদিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (০৬ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমন ঘটনা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের একটি গ্রামে চার বছর বয়সী যমজ কন্যাশিশু হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্রীশাইলাম তার বাবা অশোক, মা লবণ্য এবং ছোট ভাই রাকেশের সঙ্গে মিলে কয়েক মাস ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের ধারণা ছিল, কন্যাসন্তান ভবিষ্যতে পরিবারের ওপর ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়াবে। তদন্ত কর্মকর্তা এ নিরঞ্জন রেড্ডি জানান, অভিযুক্ত শুরু থেকেই কন্যাসন্তান চাননি। স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীনই তিনি জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী মৌনিকা এতে রাজি হননি। ২০২২ সালে যমজ কন্যার জন্ম হলেও অভিযুক্তরা তাদের মেনে নিতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি হাসপাতালে গিয়ে সন্তানদের কাছেও যাননি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও মেয়েশিশ
সন্তানের জন্য মানুষের আকুতির যেন শেষ নেই। তবে এবার সামনে এসেছে একটি রোমহর্ষক ঘটনা। মেয়ে হওয়ায় যমজ শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবা-চাচা-দাদা-দাদিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমন ঘটনা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের একটি গ্রামে চার বছর বয়সী যমজ কন্যাশিশু হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্রীশাইলাম তার বাবা অশোক, মা লবণ্য এবং ছোট ভাই রাকেশের সঙ্গে মিলে কয়েক মাস ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের ধারণা ছিল, কন্যাসন্তান ভবিষ্যতে পরিবারের ওপর ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়াবে।
তদন্ত কর্মকর্তা এ নিরঞ্জন রেড্ডি জানান, অভিযুক্ত শুরু থেকেই কন্যাসন্তান চাননি। স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীনই তিনি জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী মৌনিকা এতে রাজি হননি।
২০২২ সালে যমজ কন্যার জন্ম হলেও অভিযুক্তরা তাদের মেনে নিতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি হাসপাতালে গিয়ে সন্তানদের কাছেও যাননি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও মেয়েশিশু জন্ম নেওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন। ঘটনার চার দিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। গত ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত তার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে দুই শিশুকে নিয়ে কৃষি ক্ষেতে যান।
সেখানে একটি কূপের পাশে খেলতে থাকা অবস্থায় প্রথমে এক শিশুকে কূপে ফেলে দেন, এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর দ্বিতীয় শিশু পানিতে বাঁচার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত নিজে কূপে নেমে তাকে ডুবিয়ে হত্যা করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এটি অত্যন্ত নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর অভিযুক্ত ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে লোকজন ডাকেন। পরে তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে এক শিশুকে কূপের পাশে এবং অন্যজনকে নিখোঁজ দেখতে পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করলে অভিযুক্তের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাকে মারধরও করে। পরে তিনি পালিয়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান যে, ‘পরিকল্পনা সফল হয়েছে’। পরবর্তীতে চারজন অভিযুক্তই পালিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এটি আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক অপরাধগুলোর একটি। শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।
What's Your Reaction?