মোংলায় পর্যটকবাহী নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত, বিপাকে পর্যটকরা

মোংলায় পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের ধর্মঘট আরও তীব্রতর হয়েছে। সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে মালিকপক্ষ এই ধর্মঘট পালন করছে। পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের অব্যাহত ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। টানা দুই দিন ধরে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে দিনব্যাপী ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এর আগে গত রোববার মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে জালিবোট মালিকদের মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ।মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালিবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে গতকাল অভিযান চালিয়ে তাঁদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব

মোংলায় পর্যটকবাহী নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত, বিপাকে পর্যটকরা

মোংলায় পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের ধর্মঘট আরও তীব্রতর হয়েছে। সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে মালিকপক্ষ এই ধর্মঘট পালন করছে। পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) মালিকদের অব্যাহত ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। টানা দুই দিন ধরে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে দিনব্যাপী ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এর আগে গত রোববার মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে জালিবোট মালিকদের মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালিবোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করে গতকাল অভিযান চালিয়ে তাঁদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, “আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করি। কোস্ট গার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০ জন পর্যটক যাতায়াত করে। আমাদের সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা ট্রেড লাইসেন্স করেছি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে, যেখানে প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”

ঈশ্বরদীর পাবনা থেকে ঘুরতে আসা সোহান বলেন, “পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।”

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা আবু হাসান বলেন, “মেয়ের শখ পূরণ করতে সুন্দরবনের উদ্দেশ্য আসছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কী করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন। আসাটাই বৃথা হলো।”

সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, “ট্রলার মালিকেরা ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে কোনো নৌযান বা পর্যটক আসেনি।”

নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, “অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা এর বেশি পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী সব নৌযানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow