মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু 

একই মায়ের গর্ভে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই ভাই। শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি, হাসি-কান্না আর ভালোবাসার বন্ধন মুহূর্তেই রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো। একটি মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই সাকিব (২২)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রাম। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। এর আগে বুধবার গভীর রাতে উপজেলার পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিব ও অভিযুক্ত রাকিব (১৮) একই পরিবারের দুই ভাই। তারা এলাকার বাসিন্দা এরশাদুল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেল কার দায়িত্বে থাকবে, তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক উঠানে শুরু হওয়া সেই তর্ক একসময় ভয়াবহ রূপ নেয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে বড় ভাই সাকিবকে আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাকিব। পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বা

মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু 

একই মায়ের গর্ভে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই ভাই। শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি, হাসি-কান্না আর ভালোবাসার বন্ধন মুহূর্তেই রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো। একটি মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই সাকিব (২২)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। এর আগে বুধবার গভীর রাতে উপজেলার পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব ও অভিযুক্ত রাকিব (১৮) একই পরিবারের দুই ভাই। তারা এলাকার বাসিন্দা এরশাদুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেল কার দায়িত্বে থাকবে, তা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক উঠানে শুরু হওয়া সেই তর্ক একসময় ভয়াবহ রূপ নেয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে বড় ভাই সাকিবকে আঘাত করেন।

রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাকিব। পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে মোটরসাইকেলটি পরিবারের নাকি অন্য কারও, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, দুই ভাইয়ের এমন পরিণতি তাদের মর্মাহত করেছে। যে ভাইয়ের সঙ্গে একসময় একই থালায় খাবার খেত, সেই ভাইয়ের হাতেই প্রাণ হারাতে হলো সাকিবকে—এ ঘটনা কেউই সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর সম্পর্কের বন্ধন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মোটরসাইকেল নিয়ে সামান্য বিরোধের পরিণতিতে বড় ভাইয়ের নিথর দেহ আর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ—এ যেন এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow