ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরুণীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের শাস্তি, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতারিত পরিবার এবং ছাত্রজনতা। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় নগরীর সি কে ঘোষ রোডস্থ ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতারিত পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরুণীদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, পরিবারগুলোর আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা, প্রতারণা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তৌহ

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরুণীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের শাস্তি, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতারিত পরিবার এবং ছাত্রজনতা।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় নগরীর সি কে ঘোষ রোডস্থ ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতারিত পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- প্রতারক হরিদাস চন্দ্র তরুণীদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, পরিবারগুলোর আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা, প্রতারণা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন পরিচয়ে নিজেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সরকারি চাকরি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি ব্যবহার করতেন। 

এ ছাড়া সম্প্রতি গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসে সংবাদ সম্মেলনে ফুলবাড়িয়ার একটি রিসোর্ট থেকে দৈনিক তিন লাখ টাকা এবং ২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবজি সরবরাহ করে প্রতিদিন অন্তত ১১ লাখ টাকা আয় করার দাবি করেন। তবে স্মারকলিপিতে এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টটি তিনি ২০২২ সালেই দেনার দায়ে বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ছিল না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক (শহীদ ও আহত সেল) গোলাম মোরশেদ খান স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, প্রতারণার বিষয়ে তথ্য জানার পর তাকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল হোয়াটসঅ্যাপে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ৭ জুন হামলার শিকার হন এবং ১৫ জুন পুনরায় হত্যার পরিকল্পনার তথ্য জানতে পেরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ১৭-২৩ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকোর্স পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গত ২০ জুলাই মানি লন্ডারিং মামলায় ডিবি হরিদাসকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী আবুল কালাম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মায় রেখে ৪০টি ঘর, ১০০টি মোটর এবং ১০০টি সোলার প্যানেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আরও ২২ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। মানুষের পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া তাকে জিম্মায় রেখে তার চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকেও সুদে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

অন্য ভুক্তভোগী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, তার স্যানিটারি দোকান থেকে ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার রড, সিমেন্ট, স্যানিটারি সামগ্রী এবং ৩৬টি মোটর পাম্প নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুধু কয়েকজন নয়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার শতাধিক পরিবার এই প্রতারণার শিকার হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাননি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, জড়িত সব সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow