যমুনার পানি বৃদ্ধি: আমনের বীজতলা তলিয়ে বিপাকে কৃষক
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা, বাঙালি, করতোয়া ও কাটাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের আমনের বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা সদর, ঘুড়িদহ, হলদিয়া, কামালেরপাড়া, পদুমশহর, ভরতখালী, কচুয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে সাঘাটা উপজেলার ভুতমারা, শঙ্করগঞ্জ ঘাট, এলাচের ঘাট, রামনগর, ত্রিমোহিনী, কচুয়া এবং মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা এলাকায় পানির চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ওঠানামা করলেও গত তিন দিন ধরে তা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বাঙাবাড়ী, কামালেরপাড়া, চন্দনপাটসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি ও সবজির খেত এখন পানির নিচে। চন্দনপাট এ
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা, বাঙালি, করতোয়া ও কাটাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত।
এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের আমনের বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা সদর, ঘুড়িদহ, হলদিয়া, কামালেরপাড়া, পদুমশহর, ভরতখালী, কচুয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে সাঘাটা উপজেলার ভুতমারা, শঙ্করগঞ্জ ঘাট, এলাচের ঘাট, রামনগর, ত্রিমোহিনী, কচুয়া এবং মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা এলাকায় পানির চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ওঠানামা করলেও গত তিন দিন ধরে তা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বাঙাবাড়ী, কামালেরপাড়া, চন্দনপাটসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি ও সবজির খেত এখন পানির নিচে।
চন্দনপাট এলাকার কৃষক শামসুল ইসলাম ও ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষকের আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের উঠতি পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাট কেটে নেওয়ার সুযোগ পাননি, সেগুলো এখন পানির নিচে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।’
এদিকে, কচুয়া ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকায় বাঙালি নদীর ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের গতি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওই এলাকার কৃষক কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবাদি জমিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনে আমাদের একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছি।’
কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার বলেন, ‘নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। আমি ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর জানান, নৌযানে করে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সমস্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানার চেষ্টা চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?