যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান সরাসরি যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যকার এমন উত্তেজনার মধ্যে এমন তথ্য সামনে এসেছে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র-মিত্র দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান সরাসরি যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যকার এমন উত্তেজনার মধ্যে এমন তথ্য সামনে এসেছে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র-মিত্র দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে, তাহলে এসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে—এই বার্তা আমরা পরিষ্কারভাবে দিয়েছি।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের আরেকটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে মঙ্গলবার রাতে ইরানে সরকার পতন বা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইসরায়েল।

মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তিনি বলেন, যদি তারা ফাঁসি দেয়, তাহলে আপনারা কিছু ঘটতে দেখবেন। একই দিনে ট্রাম্প ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সহায়তা আসছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য, যা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow