যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর প্রতারণার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ মাসুক আহমদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি ও গুম করার অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় কুলাউড়া পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রাবেয়া বেগম। লিখিত বক্তব্যে রাবেয়া বেগম বলেন, আমি কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ছালামতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের মেয়ে। ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট একই ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ আহমদ উল্লার ছেলে মোহাম্মদ মাসুক আহমদের সঙ্গে ৪০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে আমার বিবাহ হয়। বিয়ের পর স্বামী মাসুক আহমদকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা দিয়ে নিয়ে আসি। সেখানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করাই। দেশে অনেক সম্পত্তি যৌথ ক্রয় করি। আমার মাধ্যমে স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি তার সৎ মা আলতারুন বেগম, ভাই আজিজুর রহমান জীবন, বোন মাছুমা আক্তার জুলি ও উপমা আক্তার ঝুনিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেন। বেশ কিছুদিন আমাদের সংসার ভালোই চলছিল। তিনি বলেন, বিয়ের পর আমার স্বামীর কথায় আমার প্রথম বাচ্চা নষ্ট করি। এরপর সন্তান নেওয়ার
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ মাসুক আহমদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি ও গুম করার অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় কুলাউড়া পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রাবেয়া বেগম।
লিখিত বক্তব্যে রাবেয়া বেগম বলেন, আমি কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ছালামতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের মেয়ে। ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট একই ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ আহমদ উল্লার ছেলে মোহাম্মদ মাসুক আহমদের সঙ্গে ৪০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে আমার বিবাহ হয়। বিয়ের পর স্বামী মাসুক আহমদকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা দিয়ে নিয়ে আসি। সেখানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করাই। দেশে অনেক সম্পত্তি যৌথ ক্রয় করি। আমার মাধ্যমে স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি তার সৎ মা আলতারুন বেগম, ভাই আজিজুর রহমান জীবন, বোন মাছুমা আক্তার জুলি ও উপমা আক্তার ঝুনিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেন। বেশ কিছুদিন আমাদের সংসার ভালোই চলছিল।
তিনি বলেন, বিয়ের পর আমার স্বামীর কথায় আমার প্রথম বাচ্চা নষ্ট করি। এরপর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও আর সন্তান হয়নি। একপর্যায়ে আমার স্বামীর কারণে সংসারে নানা অশান্তি নেমে আসে। এরপর আমার স্বামী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঘন ঘন দেশে আসা শুরু করেন। একপর্যায়ে তার আসল চেহারা প্রকাশ পায়। বিয়ের পর থেকে নানা বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আমার স্বামী আমার ওপর বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে মারধরও করেন। তার বিতর্কিত সকল কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের ২৪ বছরের সংসার অশান্তি নেমে আসে। তিনি নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে দেশে ফিরে আমাদের দুইজনের যৌথ সমস্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ করে এককভাবে তার দখলে নিয়েছেন।
রাবেয়া বেগম বলেন, সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকের সময় ও স্থান আমার স্বামী মাসুক আহমদ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বৈঠকের একদিন আগে কাউকে না জানিয়ে দেশে চলে আসেন। আসার সময় আমার বাসা থেকে প্রায় ১০ হাজার ডলার মূল্যের স্বর্ণ নিয়ে আসেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আমি দেশে ফিরে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার স্বামী ২০২৩ সালে দেশে এসে রাজনগর উপজেলার কামারচক ইউনিয়নের পঞ্চাহ্নপুর গ্রামে ঝুমি নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। সেই বিয়েতে আমার কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, এখন আমার কিছু নেই। আমি নিঃস্ব। আমার স্বামীর হুমকির ভয়ে আমি বাবার বাড়িতে না থেকে খালার বাড়িতে বসবাস করছি। আমি মানসিক যন্ত্রণা ও অশান্তিতে রয়েছি। আমার স্বামী নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, তার দল এখন ক্ষমতায়। তিনি আমার বাবার বাড়ি জ্বালিয়ে দিবেন। এমনকি তিনি আমাকে প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি সরকার ও প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের যৌথ সম্পত্তি থেকে আমার প্রাপ্য সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাসুক আহমদ ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাবেয়া আমার স্ত্রী। সন্তান নষ্ট হওয়ার সময় আমি দেশে ছিলাম। আমার শ্বশুরের প্ররোচনায় পড়ে তিনি (স্ত্রী) সন্তান নষ্ট করেন। জমি-জমার বিষয়ে তার মালিকানা থাকলে তিনি অবশ্যই জমি পাবেন। আমি দলীয় পরিচয়ে কোন হুমকি দেইনি।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত বলেন, বিষয়টি অবগত। অভিযুক্ত মাসুক আহমদ স্ত্রীর প্রাপ্য সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো দেননি। তিনি গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন শুনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
What's Your Reaction?