যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প
চলমান যুদ্ধবিরতিতে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে প্রথমবারের মতে সরাসরি আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ১০ দফার মধ্যে ৬-৭ নম্বর দফায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। উভয় পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পাল্টা প্রস্তাবের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করে জানায়নি। আরও পড়ুন>>ইউরেনিয়াম: মাটি খুঁড়ে বের করতে চান ট্রাম্প, সমৃদ্ধকরণ চলবে জানালো ইরান হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় মাটির গভীরে চাপা পড়া ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ইরান ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বোঝান, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মতে, সাম্প্রতিক হামলার পর ভূগর্ভে চাপা পড়ে
চলমান যুদ্ধবিরতিতে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে প্রথমবারের মতে সরাসরি আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ১০ দফার মধ্যে ৬-৭ নম্বর দফায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। উভয় পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পাল্টা প্রস্তাবের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করে জানায়নি।
আরও পড়ুন>>
ইউরেনিয়াম: মাটি খুঁড়ে বের করতে চান ট্রাম্প, সমৃদ্ধকরণ চলবে জানালো ইরান
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় মাটির গভীরে চাপা পড়া ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ইরান ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বোঝান, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মতে, সাম্প্রতিক হামলার পর ভূগর্ভে চাপা পড়ে আছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনেক বিষয়ে সমঝোতা’ হয়েছে এবং শিগগির ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে। এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে তারা এই মজুত সরিয়ে ফেলবে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। গত বছর ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরদিনই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পরদিন ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ২৪ জুন ট্রাম্প ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
তবে মার্কিন প্রসাশনের অভিযোগ ইরানের ভূগর্ভে চাপা পড়া ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে পারে ইরান। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মাটির নিচে চাপা পড়া ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে পারে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী সরকার।
এরপর এই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেনেভাতে আলোচনা চলা অবস্থায় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালায়। দীর্ঘ ৩৯ দিন যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
এমএম
What's Your Reaction?