হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও অঞ্চলের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
‘মুক্তির দিন’ ঘোষণা করে শুল্ক বৃদ্ধি
বুধবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে আমাদের দেশ লুটপাট, শোষণ এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তা বন্ধ করার সময় এসেছে।
আরও পড়ুন>>
- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কত শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
- ট্রাম্পের ঘোষণায় সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ হলো যেসব দেশে
- সবচেয়ে কম শুল্ক আরোপ হলো যেসব দেশে
তার ঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ, বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্যই এই শুল্ক বসিয়েছেন এবং তা তাদের আমদানি শুল্কের অর্ধেক মাত্র।
শুল্ক কবে থেকে কার্যকর
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক শুল্ক দুটি ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে, ন্যূনতম শুল্ক ( ১০ শতাংশ) আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে, উচ্চতর শুল্ক (যেমন বাংলাদেশের জন্য ৩৭ শতাংশ) ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ, রয়টার্স
কেএএ/