যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও জড়িতদের শাস্তি দাবি
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অসম বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দেশের স্বার্থবিরোধী এ চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে ‘আমেরিকার সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, সিপিবির সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং কলামিস্ট ও লেখক আবু তাহের খান প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্বে থাকা কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, রাজনৈতিক লড়াই ও সংগ্রামের মধ্যদিয়েই এ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করা হবে। দেশের বিরোধী এ
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অসম বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দেশের স্বার্থবিরোধী এ চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে ‘আমেরিকার সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, সিপিবির সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং কলামিস্ট ও লেখক আবু তাহের খান প্রমুখ।
সভায় সভাপতিত্বে থাকা কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, রাজনৈতিক লড়াই ও সংগ্রামের মধ্যদিয়েই এ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করা হবে। দেশের বিরোধী এ চুক্তি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে আমেরিকার প্রায় ১২০০ কোটি টাকা মওকুফ করা হয়েছে, অন্যদিকে ১৫ শতাংশের বদলে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা শুল্ক আদায়ের কথা ছিল, সেখানে তা এখন বেড়ে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। চুক্তির ভাষা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেল (shall) শব্দটি বাংলাদেশের অংশে ১৩১ বার ব্যবহৃত হয়েছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬ বার, যা চুক্তির অসমতা ও অন্যায্যতা প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, চুক্তিতে নন-ডিসক্লোজার ক্লজ রয়েছে এবং মার্কিন বিশেষজ্ঞরা এসে চুক্তির ভাষা তৈরি করেছেন, যেখানে জবরদস্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু শুল্ক নয়, এর বাইরে বিভিন্ন খাতেও আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রকিউরমেন্টের ক্ষেত্রেও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টন পণ্য কিনতে হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। চুক্তি ভঙ্গ করলে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, সেটিও মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই অন্যায্য চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা (রি-ভিজিট) করতে হবে। কারণ এটি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড়ো ধরনের হুমকি।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, প্রথমত এ চুক্তিটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো— এতে কার স্বার্থ রক্ষা হলো? যদি গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা হয়, তাহলে এখানে স্বচ্ছতা কোথায় ছিল? পুরো প্রক্রিয়ায় মাত্র তিন–চারজন মানুষ যুক্ত ছিলেন। এই চুক্তির চেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক চুক্তি আর হতে পারে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে তথ্য গোপন রাখার সুযোগ থাকবে না, ভর্তুকি দেওয়াও কঠিন হয়ে যাবে। এতে দেশকে আবার এক ধরনের ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক আবু তাহের খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশে তেমন কোনো বিস্তৃত আলোচনা হচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে, জাপানের সঙ্গে নাকি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে— কিন্তু বাস্তবে এটি এক ধরনের প্রতারণা। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এই চুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করে আইনি লড়াই শুরু করা উচিত।
সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যে অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে তা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং এই চুক্তির সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সিপিবির সাবেক সভাপতি এবং সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হচ্ছে— বাস্তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে বলে মনে হয়। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার মতে, বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদ নতুন রূপে— নয়া উপনিবেশবাদের মাধ্যমে— অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এখন সরাসরি রাজনৈতিক শাসন নয়, বরং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এমন একটি সরল ও স্পষ্ট দেশবিরোধী চুক্তির নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত রাজপথেই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তাদের একটি ঘাঁটিতে পরিণত করতে চায়— এটা এখন পরিষ্কার। তিনি অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাখা হয়েছে মূলত মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান বুঝে নিতে হবে এবং এর প্রধান মোকাবিলা হবে রাজনৈতিকভাবে। এজন্য জনগণের শক্তি গড়ে তোলা জরুরি।
ইএইচটি/এমএএইচ/
What's Your Reaction?