যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরে বিতর্ক

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেবেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি যুদ্ধে হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে, তার সমর্থক শিবিরের কিছু প্রভাবশালী সদস্য এই নীতিকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্প আসলে ইসরায়েলের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করছেন এবং এটি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আরও বলেন, যখন ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে- এই বিষয়টি সামনে আনা হয়, তখন মনে রাখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাস্তবে এমন কোনো কার্যক্রম চলছিল না। এমনকি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার সময় বলেছিলেন, ওই কর্মসূচি পুরোপুরি ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’। ফলে বিষয়টির এই দিকটি নিয়েও এখন অনেক প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে- এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর

যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরে বিতর্ক

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেবেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি যুদ্ধে হস্তক্ষেপের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে, তার সমর্থক শিবিরের কিছু প্রভাবশালী সদস্য এই নীতিকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্প আসলে ইসরায়েলের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করছেন এবং এটি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তারা আরও বলেন, যখন ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে- এই বিষয়টি সামনে আনা হয়, তখন মনে রাখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাস্তবে এমন কোনো কার্যক্রম চলছিল না।

এমনকি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার সময় বলেছিলেন, ওই কর্মসূচি পুরোপুরি ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’। ফলে বিষয়টির এই দিকটি নিয়েও এখন অনেক প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে- এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সামরিক বিশ্লেষকদের মন্তব্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল এখনো এই যুদ্ধে জয় পায়নি। ফলে এই মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ হলে সেটি ইরানের জন্য ও হিজবুল্লাহর জন্য বিজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল বলে আসছে, ইরানের সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকি থাকা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। এজন্য তারা ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও তেল স্থাপনাগুলোর ওপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখতে চায়।

এদিকে, ইসরায়েল ইরানের তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার পরিধিও বাড়িয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে এটি ভুল দিকের পদক্ষেপ হতে পারে, কারণ এতে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আগ্রহী নয়। কারণ ট্রাম্প তার সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন ধরে রাখা ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow