যে উপসর্গগুলো অবহেলা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে

ডায়াবেটিস এক দিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার ভুল আর শরীরের ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া অসহযোগিতার ফলেই শুরু হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। আর এটাই ভবিষ্যতের বড় বিপদের পূর্বাভাস। ইনসুলিন যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা শর্করা ভাঙতে পারে না।  এর ফলে মূলত দুইটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত, শর্করা থেকে শক্তি উৎপন্ন না হওয়ায় শরীরে এনার্জির ঘাটতি তৈরি হয় এবং সহজেই ক্লান্তি আসে। দ্বিতীয়ত, শর্করা শক্তিতে রূপান্তরিত না হলে তা শরীরে জমতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত শর্করা জমে থাকার ফলেই ডায়াবেটিসের পাশাপাশি আরো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।  বিপাকের হার কমে যেতে পারে, ওজন বাড়তে পারে, বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি। শরীরে তৈরি হয় ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ, যার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধে। এই বিপদ এড়াতে হলে সময় থাকতে থাকতে উপসর্গগুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষায় ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগেই সতর্ক হলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।  চলুন জেনে নিই, কিভাবে বুঝবেন শরীরে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করছে কি না। খাওয়ার পরেই আবার খিদে পাচ্ছে? খাবার খ

যে উপসর্গগুলো অবহেলা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে

ডায়াবেটিস এক দিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার ভুল আর শরীরের ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া অসহযোগিতার ফলেই শুরু হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। আর এটাই ভবিষ্যতের বড় বিপদের পূর্বাভাস। ইনসুলিন যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা শর্করা ভাঙতে পারে না। 

এর ফলে মূলত দুইটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত, শর্করা থেকে শক্তি উৎপন্ন না হওয়ায় শরীরে এনার্জির ঘাটতি তৈরি হয় এবং সহজেই ক্লান্তি আসে। দ্বিতীয়ত, শর্করা শক্তিতে রূপান্তরিত না হলে তা শরীরে জমতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত শর্করা জমে থাকার ফলেই ডায়াবেটিসের পাশাপাশি আরো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

বিপাকের হার কমে যেতে পারে, ওজন বাড়তে পারে, বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি। শরীরে তৈরি হয় ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ, যার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধে।

এই বিপদ এড়াতে হলে সময় থাকতে থাকতে উপসর্গগুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষায় ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগেই সতর্ক হলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। 

চলুন জেনে নিই, কিভাবে বুঝবেন শরীরে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।

খাওয়ার পরেই আবার খিদে পাচ্ছে?

খাবার খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি দেওয়ার কাজ ইনসুলিনের। যদি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খিদে পায়, তবে বুঝতে হবে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করছে না।

বিকেল ৩টার পর ঝিমুনি আসছে?

এর মানে খাবার থেকে পাওয়া শর্করা শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে না। ফলে পেশির কোষে গ্লুকোজ পৌঁছাচ্ছে না। এতে দুপুরের খাবারের পর ঘুম পেতে পারে, এমনকি মনোযোগে ঘাটতিও দেখা দেয়।

মিষ্টির প্রতি অতিরিক্ত টান?

বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে সেটাও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ হতে পারে।

সব চেষ্টা করেও পেটের মেদ কমছে না?

স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন, তেল-মসলা এড়িয়ে চলছেন, তবু পেটের মেদ কমছে না—এর অর্থ হতে পারে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করছে না। চিকিৎসকদের মতে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলে প্রথমেই পেটে চর্বি জমে।

ত্বকের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?

ত্বকের কোনো অংশ কালচে, খসখসে বা অনুজ্জ্বল হয়ে যাচ্ছে কি না দেখুন। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে ত্বকে অতিরিক্ত কোষ জমতে থাকে, যার ফলে এমন পরিবর্তন দেখা দেয়।

সময় থাকতে এই লক্ষণগুলো চিনে নিয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই পারে ভবিষ্যতের বড় বিপদ থেকে আপনাকে বাঁচাতে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow