যে কৌশলে হামলা চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে মার্কিন সেনারা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেশ থেকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আকস্মিক হামলার বিস্তারিতবিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলার সূচনা হয়েছে ৩ জানুয়ারি রাত ২টায়, যখন কারাকাস গভীর ঘুমে ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা বিস্ফোরণ আর উড়ন্ত হেলিকপ্টারের শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, লা কার্লোটা এয়ারবেস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সমাধি কুয়ের্তেল দে লা মনতানিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হয়। শহরের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতাহামলায় অন্তত নয়টি সামরিক হেলিকপ্টারের ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি ও এএইচ–১জেড ভাইপার ধরনের হেলিকপ্টার লক্ষ্যভিত্তিক রকেট ও ভারী গোলাবর্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফলমার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনু

যে কৌশলে হামলা চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে মার্কিন সেনারা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেশ থেকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আকস্মিক হামলার বিস্তারিত
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলার সূচনা হয়েছে ৩ জানুয়ারি রাত ২টায়, যখন কারাকাস গভীর ঘুমে ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা বিস্ফোরণ আর উড়ন্ত হেলিকপ্টারের শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, লা কার্লোটা এয়ারবেস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সমাধি কুয়ের্তেল দে লা মনতানিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হয়। শহরের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতা
হামলায় অন্তত নয়টি সামরিক হেলিকপ্টারের ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি ও এএইচ–১জেড ভাইপার ধরনের হেলিকপ্টার লক্ষ্যভিত্তিক রকেট ও ভারী গোলাবর্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই অভিযান কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প অনুমোদন দিয়েছেন। বড়দিন থেকেই সামরিক প্রস্তুতি শুরু হলেও সেই সময় অগ্রাধিকার ছিল নাইজেরিয়ার হামলায়।

ভেনেজুয়েলায় এ ধরনের পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক অভিযান, যেখানে সিআইএ, ব্রিটিশ এমআই–৬ ও ইসরায়েলের মোসাদ স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ‘গ্রাউন্ড সফটেনিং’–এর কাজ করেছে। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রথম ব্রিফিং পায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ডেকাপিটেশন স্ট্রাইক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রী দ্রুত আটক করা হয়েছে। এটি প্রচলিত স্থল অভিযান নয়; বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক আঘাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব সরানোর চেষ্টা।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন ‘ড্রামাটিক’ পদক্ষেপ শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকাতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের নামে পরিকল্পিত এই অভিযান ট্রাম্পকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখাতে পারে। তবে প্রশাসনের ভেতরে আইনি প্রশ্ন, নির্দেশের চেইন অব কমান্ড, কংগ্রেস অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গের বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow