যে ৪ ব্যক্তি রোজা ভেঙে ফেলতে পারবেন
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা ফরজ ইবাদত। তবে ইসলাম যেমন ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেয়, তেমনি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ মূল্য দেয়। শরিয়তের বিধান কখনোই মানুষের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপায় না। সে কারণেই কোরআন-হাদিস ও ফিকহি ব্যাখ্যায় এমন কিছু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রোজা রাখা ফরজ থাকা সত্ত্বেও সাময়িকভাবে তা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রোজা ভাঙা গোনাহ নয়; বরং নিজের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শরিয়তের নির্দেশ। কারা সেই বিশেষ ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত, যাদের জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ—ফিকহি গ্রন্থের আলোকে সেগুলোই তুলে ধরা হলো। এক : যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে তখনই তার ওপর কাজা করে নেওয়া ওয়াজিব।’ (আপকে মাসায়েল, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ২০২) দুই : রোজা রাখার কারণে কোনো ব্যক্তি এমন দুর্বল হয়ে যায় যে, রোজা রাখার
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা ফরজ ইবাদত। তবে ইসলাম যেমন ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেয়, তেমনি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ মূল্য দেয়। শরিয়তের বিধান কখনোই মানুষের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপায় না।
সে কারণেই কোরআন-হাদিস ও ফিকহি ব্যাখ্যায় এমন কিছু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রোজা রাখা ফরজ থাকা সত্ত্বেও সাময়িকভাবে তা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রোজা ভাঙা গোনাহ নয়; বরং নিজের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শরিয়তের নির্দেশ। কারা সেই বিশেষ ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত, যাদের জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ—ফিকহি গ্রন্থের আলোকে সেগুলোই তুলে ধরা হলো।
এক : যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে তখনই তার ওপর কাজা করে নেওয়া ওয়াজিব।’ (আপকে মাসায়েল, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ২০২)
দুই : রোজা রাখার কারণে কোনো ব্যক্তি এমন দুর্বল হয়ে যায় যে, রোজা রাখার শক্তি নেই; তাহলে ওই ব্যক্তির জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ। (আপকে মাসায়েল, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ২০৩)
তিন : রোজা রাখা অবস্থায় যদি এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে, প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়; তাহলে রোজা ভেঙে ফেলা যাবে। (ফতওয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০৭)
চার : গর্ভধারিণী নারী বা স্তন্যদানকারিণী নারী যদি নিজের ওপর অথবা নিজের বাচ্চার ওপর প্রাণাতিপাতের আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ। (আলমগিরি, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ২০৭)
প্রসঙ্গত, যে বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করতে পারবে এমন সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদয়া প্রদান করবে। (সুরা বাকারা : ১৮৪)
বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত ছাবেত বুনানী (রাহ.) বলেন, হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না তখন তিনি রোজা না রেখে (ফিদইয়া) খাবার দান করতেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাজযাক : ৭৫৭০)
উক্ত মাসআলা হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) , আতা (রাহ.), সায়িদ ইবনে যুবাইর (রাহ)., হাসান বসরি (রাহ.), মুজাহিদ (রাহ.) এবং সায়িদ ইবনে মুসাইয়াব (রাহ.) থেকে বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফ আবদুর রাজযাক : ৪/২২০-২২৪)
What's Your Reaction?