যৌন হয়রানি ও বুলিংয়ে নিরাপত্তাহীন চবির নারী শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিতে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি’ এবং ‘বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হলেও অধিকাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তাই নারী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (চাকসু) ছাত্রী কল্যাণের দুটি পদ থাকলেও এসব বিষয়ে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেল’-এ এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি আবেদন পড়েছে। অন্যদিকে, ‘বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সেল’-এ পড়েছে প্রায় ৯টি আবেদন। তবে এসব আবেদনের অধিকাংশেরই এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এমনকি এসব আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানেন না চাকসুর নারী সম্পাদকরাও। প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে সাইবার বুলিং ও হয়রানির বিচার চেয়ে প্রক্টর অফিসে প্রায় ৪০টি আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এসব অভিযোগেরও অধিকাংশের নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া আপ

যৌন হয়রানি ও বুলিংয়ে নিরাপত্তাহীন চবির নারী শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিতে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি’ এবং ‘বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হলেও অধিকাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তাই নারী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (চাকসু) ছাত্রী কল্যাণের দুটি পদ থাকলেও এসব বিষয়ে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সেল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেল’-এ এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি আবেদন পড়েছে। অন্যদিকে, ‘বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সেল’-এ পড়েছে প্রায় ৯টি আবেদন। তবে এসব আবেদনের অধিকাংশেরই এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এমনকি এসব আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানেন না চাকসুর নারী সম্পাদকরাও।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে সাইবার বুলিং ও হয়রানির বিচার চেয়ে প্রক্টর অফিসে প্রায় ৪০টি আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এসব অভিযোগেরও অধিকাংশের নিষ্পত্তি হয়নি।

অভিযোগগুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া আপলোড ও প্রচার, অশোভন বার্তা পাঠানো, মিথ্যা ও বানোয়াট ছবি তৈরি, ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রীতিকর ও আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, গ্রুপ বুলিং এবং বাসের মধ্যে হয়রানির মতো বিষয় উঠে এসেছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পাশাপাশি, নারী শিক্ষার্থীদের দ্বারাও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগে বিচার ও নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছর স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ফেসবুকে লেখালেখি ও লাইভ ভিডিও করায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও ধর্ষণের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও, হয়নি কোন নিষ্পত্তি, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনই বর্তমানে মুক্ত রয়েছেন।

অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীক ‘Chittagong University News’ ও ‘CU Crushes and Confessions’ পেজের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি সেল থাকার পরও অভিযোগগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রথমে প্রক্টর অফিসে আসে। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট সেলে পাঠানো হয়। তবে প্রক্টর অফিসের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী আর অভিযোগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন না বা খোঁজ নেন না।

এদিকে, এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার বুলিংয়ের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিকার ব্যবস্থা এখনো গতানুগতিক। অনলাইন ও সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে সেলের সদস্যরা অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও ভুয়া পেজ বা নাম-পরিচয় গোপন রাখা অভিযুক্তদের অনেককেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের অন্যতম মাধ্যম চাকসুও অন্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে, নিজেদের অভিযোগও নিষ্পত্তি করাতে পারেননি চাকসুর নারী সদস্যরা। নির্বাচিত চাকসুর তিন নারী সদস্যের মধ্যে দুজন হেনস্তার অভিযোগ দিলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেগুলোর কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। অপর এক নারী সম্পাদক বিচারহীনতার অভিযোগ তুলে কোনো লিখিত অভিযোগই করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েও অধিকাংশ শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করছেন না। অভিযোগ করলেও দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার কারণে বিচার পেতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বুলিংয়ের শিকার হয়েও অভিযোগ না করা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার সময় থাকায়, অন্যদের বিচার না হওয়া ও জটিলতার কারণে আমিও আবেদন করি না। আমার এক পরিচিত এ বিষয়ে আবেদন করলেও বারবার মিটিংয়ের সময় দেওয়া হলেও সঠিক সময়ে হয় না। তাই আমিও করি নাই।’

এ বিষয়ে চাকসুর সহছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, ‘শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আমার মনে হয় সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগের যথাযথ সমাধান বাংলাদেশের কোথাও হচ্ছে না। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। এরই মধ্যে তার ছাত্রজীবন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো তাঁর ফলাফল প্রকাশ হয়নি। আদৌ ফলাফল প্রকাশ হবে কি না, সেটিও জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত প্রশাসনের সময় আমরা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে বসেছি। বর্তমান প্রশাসনের সময়ও যোগাযোগ হয়েছে। কমিটির সদস্যদের অন্যান্য ব্যস্ততা ও বিভিন্ন কারণে বিষয়গুলো সমাধান হচ্ছে না। তবে আমরা বারবার তাদের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছি। সর্বশেষ, সেলগুলোর জন্য সম্ভবত একটি কক্ষ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি।’

বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সেলের সদ্য সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘অভিযোগে লিখিত পাওয়া তথ্যগুলোর ভিত্তিতে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। আমরা ভার্চুয়ালি ও সরাসরি মিটিংয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করে থাকি। ভুয়া পেজ বা প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে আমরা পারি না। কারণ, এগুলো সমাধানের জন্য আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ প্রযুক্তি বা সহায়তা প্রয়োজন, যা আমরা পাই না।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow