যৌন হয়রানির দায়ে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান স্থায়ী বরখাস্ত

যৌন হয়রানির অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য দেশগুলোর এক জরুরি অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ৮২টি দেশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৩টি এবং ১৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। খানের আইনি দল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের দাবি, সিদ্ধান্তটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আইসিসি। সেই প্রেক্ষাপটেই খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি খানের আইনজীবীদের। খবর আল জাজিরা খানের আইনজীবী দলের প্রধান তাইয়াব আলী বলেন, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তরের (ওআইওএস) তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করে একটি বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল, প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামোর আওতায়

যৌন হয়রানির দায়ে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান স্থায়ী বরখাস্ত
যৌন হয়রানির অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য দেশগুলোর এক জরুরি অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ৮২টি দেশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৩টি এবং ১৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। খানের আইনি দল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের দাবি, সিদ্ধান্তটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আইসিসি। সেই প্রেক্ষাপটেই খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি খানের আইনজীবীদের। খবর আল জাজিরা খানের আইনজীবী দলের প্রধান তাইয়াব আলী বলেন, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তরের (ওআইওএস) তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করে একটি বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল, প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামোর আওতায় খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে খানসহ আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাইয়াব আলী বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত শুধু করিম খানের ব্যক্তিগত মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর গুরুতর প্রভাব রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা নির্ভর করে নির্বাচিত কর্মকর্তারা যেন রাজনৈতিক, প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য অথবা স্বাধীন বিচারিক সংস্থার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত না হন।’ খানের আইনজীবী দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা অবস্থায় এবং আদালত যখন ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিল, তখন একটি নির্বাহী ভোটের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজে এই সিদ্ধান্ত ‘প্রমাণ এবং এ বিষয়ে একমাত্র বিচারিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ অভিযোগ ওঠার প্রায় দুই বছর পর অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ খানকে অপসারণের অনুমোদন দিল। ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ আইনজীবী খান এর আগে জুন মাসে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কারণ একটি তদারকি প্যানেল জানিয়েছিল, তিনি ‘গুরুতর অসদাচরণ’ করেছেন। আইসিসির তদারকি সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ (এএসপি)-এর সভাপতি পাইভি কউকোরান্তা জানান, করিম খান ‘গুরুতর অসদাচরণ এবং দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতা’ করেছেন বলে সংস্থাটি মনে করেছে। তবে খানের আইনজীবী বলেন, ‘করিম খানের অপসারণ এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে, যেখানে তাকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পূর্ণ প্রমাণ পর্যালোচনা করা স্বাধীন বিচারকদের সিদ্ধান্তও উপেক্ষা করা হয়েছে।’ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী নারী, যাকে শুধু ‘সারা’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, খান তার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একবার তিনি ঘুমানোর ভান করার সময় খান তাকে ঘনিষ্ঠভাবে স্পর্শ করেছিলেন। তবে করিম খান সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, তাকে অপসারণের প্রক্রিয়াটি প্রমাণহীন এবং ন্যায়সংগত ছিল না। উল্লেখ্য, গাজা, ইউক্রেনসহ একাধিক সংঘাত নিয়ে তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন করিম খান। তবে ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক প্রধান কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, খানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ ‘স্পষ্টতই আইসিসির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আক্রমণের অংশ।’ করিম খানকে অপসারণের পর নতুন আইসিসি প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী বছরের আগে নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow