রক্ত দেওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীরে কী কী ঘটে? জানুন
রক্তদান একটি মহৎ কাজ, যা প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচায়। অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা বা নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় রক্তের উপাদানগুলোর কোনো বিকল্প নেই। তবে রক্তদান নিয়ে অনেক সময় প্রথম রক্তদাতার মনে কিছুটা ভয় বা দ্বিধা কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, রক্তদান একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রক্রিয়া এবং রক্ত দেওয়ার পরপরই শরীর নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করে। রক্ত দেওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আমাদের শরীরের ভেতরে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলে।
চলুন তাহলে জেনে নিই, এই সময়ে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে:
১. প্লাজমা বা তরল অংশ পূরণ: রক্ত দেওয়ার পর শরীরের রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা সবচেয়ে দ্রুত পূরণ হয়। সাধারণত রক্তদানের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্লাজমার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই সময়ে শরীরের টিস্যু থেকে তরল পদার্থ রক্তনালীতে চলে আসে, যা রক্ত সঞ্চালন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম শরীরের জমা করা প্রোটিন ও তরল রক্তে ফিরিয়ে দেয়।
২. অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয়: রক্ত দেওয়ার পর শরীর দ্রুত পানি সংরক্ষণের চেষ্টা করে। এসময় কিডনি পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং মস্ত
রক্তদান একটি মহৎ কাজ, যা প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচায়। অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা বা নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় রক্তের উপাদানগুলোর কোনো বিকল্প নেই। তবে রক্তদান নিয়ে অনেক সময় প্রথম রক্তদাতার মনে কিছুটা ভয় বা দ্বিধা কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, রক্তদান একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রক্রিয়া এবং রক্ত দেওয়ার পরপরই শরীর নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করে। রক্ত দেওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আমাদের শরীরের ভেতরে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলে।
চলুন তাহলে জেনে নিই, এই সময়ে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে:
১. প্লাজমা বা তরল অংশ পূরণ: রক্ত দেওয়ার পর শরীরের রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা সবচেয়ে দ্রুত পূরণ হয়। সাধারণত রক্তদানের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্লাজমার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই সময়ে শরীরের টিস্যু থেকে তরল পদার্থ রক্তনালীতে চলে আসে, যা রক্ত সঞ্চালন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম শরীরের জমা করা প্রোটিন ও তরল রক্তে ফিরিয়ে দেয়।
২. অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয়: রক্ত দেওয়ার পর শরীর দ্রুত পানি সংরক্ষণের চেষ্টা করে। এসময় কিডনি পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের সংকেতের কারণে রক্তদাতার তৃষ্ণা বেড়ে যায়, যা তাকে বেশি পানি পান করতে উৎসাহিত করে। লিভার প্লাজমা প্রোটিন (যেমন অ্যালবুমিন) তৈরি শুরু করে, যা পুরোপুরি পূরণ হতে ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় নিতে পারে।
৩. কোষীয় পুনরুদ্ধার: রক্তের প্লাজমা দ্রুত পূরণ হলেও লোহিত রক্তকণিকা পুরোপুরি তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে অণুচক্রিকা এবং শ্বেত রক্তকণিকা অনেক দ্রুত সাড়া দেয়। অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো সাথে সাথেই নতুন কোষ তৈরি শুরু করে এবং কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই দ্রুত পুনরুদ্ধারের কারণেই সুস্থ ব্যক্তিরা রক্তদানের অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পারেন।
৪. সাময়িক ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা: রক্ত দেওয়ার পর সাময়িকভাবে রক্তের আয়তন কমে যাওয়ায় কারও কারও সামান্য ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি হতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভ্যাসোভ্যাগাল রিফ্লেক্স’ বলা হয়, যেখানে হার্ট রেট কিছুটা কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে হ্রাস পায়। সাধারণত তরুণ সমাজ, প্রথম রক্তদাতা বা যাদের শরীরের গড়ন ছোট, তাদের ক্ষেত্রে এমন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও ডিহাইড্রেশন, খালি পেটে রক্ত দেওয়া বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এই সমস্যাগুলো বাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্রুত সুস্থ হতে করণীয়
রক্তদানের পর শরীরকে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করুন।
পুষ্টিকর ও হালকা খাবার গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
পরবর্তী কয়েক দিন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান, যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করবে।
শরীরের হৃৎপিণ্ড, কিডনি, লিভার এবং অস্থিমজ্জার এই সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করে যে আপনি নিরাপদে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং একই সাথে আপনার দেওয়া রক্তে অন্য একজনের জীবন বাঁচছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস