রঙিন ডানার চোখজুড়ানো প্রজাপতি ‘খয়েরচক’

প্রজাপতি প্রকৃতির এক অনিন্দ্যসুন্দর সৃষ্টি, যার রঙিন ডানায় যেন আঁকা সৌন্দর্যের হাজারো গল্প। ফুলের বাগান, সবুজ প্রান্তর কিংবা বনভূমিতে প্রজাপতিদের চোখজুড়ানো ছন্দে মৃদু ওড়াউড়ি প্রকৃতিকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর ও প্রাণবন্ত। প্রজাপতি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, এদের ডানার বর্ণিল রঙ, নকশার বৈচিত্র্য ও নৃত্যময় স্নিগ্ধ চলন সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। প্রজাপতিকে ঘিরে মানুষের আকর্ষণও চিরন্তন। এ ছাড়া প্রজাপতি উদ্ভিদের পরাগায়ন, পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের উপস্থিতি একটি পরিবেশের সুস্থতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  প্রজাপতি শুধু একটি পতঙ্গ নয়, বরং প্রকৃতির সৌন্দর্য, কোমলতা ও জীবনের রঙিন প্রকাশের এক অনন্য প্রতীক এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার এক নীরব যোদ্ধা। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের নীরব সৌন্দর্যের তেমনই কয়েকটি প্রজাপতি খয়েরচক কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দীর্ঘভূমি এলাকার একটি খালসংলগ্ন সড়কের পাশের কয়েকটি উদ্ভিদ ঘিরে ওড়াউড়ি ও খুনসুটি করতে দেখা যায়। কখনো দেখা যায়, ফল ও ফুলে, এ পাতায় ও পাতায়। কখনো রঙিন ডানায় নৃত্য করে করে উড়ছে। প্রকৃতি ঘিরে এদ

রঙিন ডানার চোখজুড়ানো প্রজাপতি ‘খয়েরচক’
প্রজাপতি প্রকৃতির এক অনিন্দ্যসুন্দর সৃষ্টি, যার রঙিন ডানায় যেন আঁকা সৌন্দর্যের হাজারো গল্প। ফুলের বাগান, সবুজ প্রান্তর কিংবা বনভূমিতে প্রজাপতিদের চোখজুড়ানো ছন্দে মৃদু ওড়াউড়ি প্রকৃতিকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর ও প্রাণবন্ত। প্রজাপতি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, এদের ডানার বর্ণিল রঙ, নকশার বৈচিত্র্য ও নৃত্যময় স্নিগ্ধ চলন সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। প্রজাপতিকে ঘিরে মানুষের আকর্ষণও চিরন্তন। এ ছাড়া প্রজাপতি উদ্ভিদের পরাগায়ন, পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের উপস্থিতি একটি পরিবেশের সুস্থতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  প্রজাপতি শুধু একটি পতঙ্গ নয়, বরং প্রকৃতির সৌন্দর্য, কোমলতা ও জীবনের রঙিন প্রকাশের এক অনন্য প্রতীক এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার এক নীরব যোদ্ধা। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্যের নীরব সৌন্দর্যের তেমনই কয়েকটি প্রজাপতি খয়েরচক কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দীর্ঘভূমি এলাকার একটি খালসংলগ্ন সড়কের পাশের কয়েকটি উদ্ভিদ ঘিরে ওড়াউড়ি ও খুনসুটি করতে দেখা যায়। কখনো দেখা যায়, ফল ও ফুলে, এ পাতায় ও পাতায়। কখনো রঙিন ডানায় নৃত্য করে করে উড়ছে। প্রকৃতি ঘিরে এদের চমকপ্রদ এই ওড়াউড়ি আর খুনসুটির নয়নাভিরাম দৃশ্যে প্রকৃতি যেন প্রাণবন্ত রূপে সেজে উঠেছিল। সেখানকার প্রকৃতি ঘিরে এক স্বর্গীয় আবহের সৃষ্টি হয়েছিল।   প্রকৃতি ঘিরে ফুলে ফুলে বিচরণ করা নানা রঙের প্রজাপতির ভিড়ে খয়েরচক একটি ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতি। গাঢ় বাদামি ও খয়েরি ডানা, ডানার কৌণিক প্রান্ত ঘেঁষে একটি সাদাটে ছোপ ও নীলাভ বিন্দুর অনন্য সমন্বয়ে এই প্রজাপতি সহজেই প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উদ্ভিদের পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই প্রজাপতি। জানা গেছে, খয়েরচক প্রজাপতির বৈজ্ঞানিক নাম ‘এলিমনিয়াস হাইপারমনেস্ট্রা’। এটি নিম্ফ্যালিডি পরিবারের ও লেপিডোপ্টেরা বর্গের একটি মাঝারি আকারের প্রজাপতি। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় এদের ডানার বিস্তার সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ খয়েরচকের ডানার নিচের অংশ গাঢ় খয়েরি রঙের। সামনের ডানি শীর্ষে সাদা ত্রিভুজাকৃতির দাগ, নীলাভ ছোপ ও কয়েকটি নীল বিন্দু এই প্রজাতিকে অন্য প্রজাতির প্রজাপতি থেকে আলাদা করে। স্ত্রী প্রজাপতির গঠন প্রায় একই হলেও রঙ তুলনামূলক ফ্যাকাশে। খয়েরচক প্রজাপতি সাধারণত দীর্ঘ সময় একটানা উড়ে বেড়ায় না। কিছুক্ষণ ওড়াউড়ির পরই কাছাকাছি গাছের পাতায় বসে বিশ্রাম নেয়। ডানা মেলে খুব বেশি রোদ পোহাতে দেখা না গেলেও রৌদ্রময় পরিবেশ এদের বেশ পছন্দ। সাধারণত এরা মাটি থেকে ১০ বা ১৫ ফুট উচ্চতার পাতায় বসে বিশ্রাম নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। স্ত্রী খয়েরচক পাতার নিচের অংশে এক বা একাধিক ডিম পাড়ে। এদের ডিম সাদা ও স্বচ্ছ, দেখতে অনেকটা লিচুর শাঁসের মতো। ডিম ফুটে বের হয় শূককীট, এদের রং সবুজ। শূককীট পাতার কিনারা থেকে খাওয়া শুরু করে ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়। পরিণত হওয়ার আগে শূককীট পাতার নিচে রেশমি সুতো তৈরি করে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলে। পরে হলদেটে-সবুজ রঙের মূককীটে রূপান্তরিত হয়ে নির্দিষ্ট সময় শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি হয়ে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, রঙিন ডানার প্রজাপতিরা কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এরা জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রজাপতির উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই খয়েরচক প্রজাপতির মতো নান্দনিক ও উপকারী অন্যান্য প্রজাপতির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে বনাঞ্চল, ঝোপঝাড় ও ফুলবাগানসহ এদের বাস উপযোগী উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।  তিনি বলেন,  শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি বিষয়ক শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে খয়েরচকের মতো প্রজাপতি এবং উপকারী কীটপতঙ্গ সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। এতে তারা শিক্ষার্থী অবস্থা থেকেই প্রকৃতি ও উপকারী প্রাণী রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করবে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন কালবেলাকে বলেন, প্রজাপতি পরিবেশবান্ধব জীব। বিভিন্ন উদ্ভিদের পরাগায়নে এদের ভূমিকা রয়েছে। তবে শুঁয়োপোকা গাছের পাতা খেয়ে উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন করে থাকে। খয়েরচক প্রজাপতি সাধারণত শান্ত স্বভাবের এবং দেখতেও বেশ সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, বনভূমি ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় অনেক প্রজাতির প্রজাপতি হুমকির মুখে পড়ছে। তাই আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow