রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির বকুলতলায় স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের পদ্মাপারে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি। বাড়িটির পশ্চিমপাশে বড় পুকুরসহ পাকা ঘাট। তার পাশেই অবস্থিত কবির স্মৃতিগাঁথা বকুলতলা। রৌদ্রোজ্জ্বল সে স্থানে ব্যাটারিচালিত হুইল চেয়ারে জেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৭ জন স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বসে আছেন। তাদের কারো দুই পা, কারো এক বা আবার কারো পা থাকলেও নেই হাঁটাচলার শক্তি। তবুও চোখেমুখে হাসি আর সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি। তাদের সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন দেশের প্রথম নারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম, কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলুর ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ড. এ কে এম গোলাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ। তারা গান, হাসি, আড্ডা আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সম্ভাবনার গল্পে মেতে উঠেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুঠিবাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এমনই চিত্র। এরপর দুপুর আড়াইট
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের পদ্মাপারে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি। বাড়িটির পশ্চিমপাশে বড় পুকুরসহ পাকা ঘাট। তার পাশেই অবস্থিত কবির স্মৃতিগাঁথা বকুলতলা।
রৌদ্রোজ্জ্বল সে স্থানে ব্যাটারিচালিত হুইল চেয়ারে জেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৭ জন স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বসে আছেন। তাদের কারো দুই পা, কারো এক বা আবার কারো পা থাকলেও নেই হাঁটাচলার শক্তি। তবুও চোখেমুখে হাসি আর সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি।
তাদের সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন দেশের প্রথম নারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম, কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলুর ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ড. এ কে এম গোলাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ।
তারা গান, হাসি, আড্ডা আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সম্ভাবনার গল্পে মেতে উঠেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুঠিবাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে এমনই চিত্র। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে কুঠিবাড়ির প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত জেলা পরিষদের বিশ্রামাগার ‘গীতাঞ্জলি’র সামনে তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সেরে নেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ড. নাসের ফাউন্ডেশন। এমন আয়োজনে খুশি উপস্থিত সকলেই।
উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রাম থেকে আগত রাজু আহমেদ বলেন, আমি বালুটানা গাড়িতে শ্রমিকের কাজ করতাম। ২০০২ সালে গাড়ি উল্টে গেলে নিচে চাপা পড়ে আহত হই। তখন থেকেই আর হাঁটাচলা করতে পারি না। এ অবস্থায় তাকে ফেলে একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে চলে গেছেন স্ত্রী। এখন অসুস্থ মাকে নিয়ে অন্যের কাছে হাত পেতে চলছে মানবেতর জীবনযাপন।
এতো বড় পর্যায়ের লোকজন এভাবে কোনোদিন প্রতিবন্ধীদের ডেকে সম্মানিত করেনি। এখানে গান, গল্প, আড্ডায় আসতে পেরে খুব খুশি চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর মিরপুর গ্রামের শামিম আহমেদ। তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে এখন অস্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছি পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে। প্রতিবন্ধীরা সবাই মিলে একটা কিছু করে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনার জন্য ড. নাসের ফাউন্ডেশন আমাদের একত্র করেছিলেন।
শহিদুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, এভাবে কেউ তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়নি। নাসের ফাউন্ডেশনের দেওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে তারা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ক্রীড়া নিয়ে ২০০০ সাল থেকে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ড. নাসের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. আবু নাসের। তিনি বেকার্সফিল্ড ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তিগত খরচ ও উদ্যোগে কাজ করছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির ব্যতিক্রমী এ সব আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহানা পারভীন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে আরও উদ্যমী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
What's Your Reaction?