রবীন্দ্রসুরে মঞ্চে ফুটে উঠল বর্ষার বহুরূপ

বর্ষা শুধু প্রকৃতির একটি ঋতুচিত্র নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিতে এটি প্রেম, বিরহ, প্রতীক্ষা, উন্মাদনা ও প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্যের বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ। সেই বর্ষার নানা রূপ ও অনুভব রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির সম্মিলনে মঞ্চে তুলে ধরা হলো গীতি-নৃত্য-আলেখ্য ‘বর্ষামুখর সন্ধ্যা’য়। নির্বাচিত রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে নৃত্যের ছন্দ ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে সাজানো এ আয়োজন দর্শকদের সামনে তুলে ধরে রবীন্দ্রনাথের বর্ষাভাবনার এক নান্দনিক জগৎ। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট সংস্কৃতিভবন মিলনায়তনে ‘ভোরের আলোয়’-এর নিবেদনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। শিল্পী লিলি ইসলামের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভোরের আলোয়, উত্তরায়ণ, নৃত্যাঞ্চল এবং ‘গানে গানে আড্ডা’র ছোটদের শিল্পীরা। প্রয়াত শিল্পীগুরু সাদি মহম্মদের স্বপ্ন, আদর্শ ও সংগীতভাবনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলা ‘ভোরের আলোয়’-এর এবারের আয়োজন ছিল তাঁর সংগীতচর্চার উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ারও একটি প্রয়াস। নিষ্ঠা, মমতা ও সৃজনশীলতায় সাদি মহম্মদ গড়ে তুলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটি। শিশু-কিশোরদের সংগীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘গানে গানে গল্প’। তাঁর অকা

রবীন্দ্রসুরে মঞ্চে ফুটে উঠল বর্ষার বহুরূপ
বর্ষা শুধু প্রকৃতির একটি ঋতুচিত্র নয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিতে এটি প্রেম, বিরহ, প্রতীক্ষা, উন্মাদনা ও প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্যের বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ। সেই বর্ষার নানা রূপ ও অনুভব রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির সম্মিলনে মঞ্চে তুলে ধরা হলো গীতি-নৃত্য-আলেখ্য ‘বর্ষামুখর সন্ধ্যা’য়। নির্বাচিত রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে নৃত্যের ছন্দ ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে সাজানো এ আয়োজন দর্শকদের সামনে তুলে ধরে রবীন্দ্রনাথের বর্ষাভাবনার এক নান্দনিক জগৎ। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট সংস্কৃতিভবন মিলনায়তনে ‘ভোরের আলোয়’-এর নিবেদনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। শিল্পী লিলি ইসলামের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভোরের আলোয়, উত্তরায়ণ, নৃত্যাঞ্চল এবং ‘গানে গানে আড্ডা’র ছোটদের শিল্পীরা। প্রয়াত শিল্পীগুরু সাদি মহম্মদের স্বপ্ন, আদর্শ ও সংগীতভাবনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলা ‘ভোরের আলোয়’-এর এবারের আয়োজন ছিল তাঁর সংগীতচর্চার উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ারও একটি প্রয়াস। নিষ্ঠা, মমতা ও সৃজনশীলতায় সাদি মহম্মদ গড়ে তুলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটি। শিশু-কিশোরদের সংগীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘গানে গানে গল্প’। তাঁর অকালপ্রয়াণের পর কিছুটা স্থবিরতা এলেও শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং শিল্পী লিলি ইসলামের তত্ত্বাবধানে আবারও প্রাণ ফিরে পায় ভোরের আলোয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় ‘আহ্বান আসিল মহোৎসবের’। এরপর ‘আজ তালের বনের করতালি’ গানের সঙ্গে সমবেত সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বর্ষার প্রাণময় রূপ। একক পরিবেশনায় ফারজানা অপরাজিতা পরিবেশন করেন ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা’। ‘আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে’ গানেও ছিল সমবেত সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ‘গহন ঘন ছাইল’, ‘হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু’, ‘গগনে গগনে আপনার মনে’, ‘আষাঢ় কোথা হতে আজ পেলি ছাড়া’ এবং ‘এসো এসো ওগো শ্যামছায়া ঘন দিন’। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গানগুলোর মধ্য দিয়ে কখনো প্রকৃতির উচ্ছ্বাস, কখনো বিষণ্নতা, আবার কখনো আকুলতা ও প্রতীক্ষার অনুভূতি মঞ্চে প্রতিফলিত হয়। একক পরিবেশনায় অংশ নেন জেসমিন রোজ, রকিবুল হাসান রঞ্জ, প্রমিলা রায়, সৌরেন্দ্র বাড়ৈ, মৌমিতা পাল ও সৌরভ শিকদারসহ শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় ‘রিমিকি ঝিমিকি ঝরে ভাদরের ধারা’, ‘আমি তখন ছিলেম মগন গহন’, ‘তিমির অবগুন্ঠনে বদন তব’, ‘শাঙন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, ‘আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে’, ‘কে দিল আবার আঘাত’ ও ‘আজি বরিষণ মুখরিত’ গানগুলোয় ফুটে ওঠে বর্ষার ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভব। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী শিবলী মহম্মদ ও তাঁর শিষ্য স্নাতা শাহরিন। সংগীত ও নৃত্যের সমন্বিত পরিবেশনায় ‘মনমোর মেঘের সঙ্গী’, ‘আঁধার অম্বরে প্রচন্ড ডম্বরু’ এবং ‘আজি বর্ষারাতের শেষে’ গানগুলোও পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও পাঠে ছিলেন অনন্যা সাহা ও মো. হাফিজুর রহমান। এ আয়োজনে ‘ভোরের আলোয়’-এর শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নেন শিল্পী-শিক্ষক লিলি ইসলাম পরিচালিত সংগীত সংগঠন ‘উত্তরায়ণ’ এবং শিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নিপা পরিচালিত নৃত্য সংগঠন ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর শিল্পীরা। ছোটদের সংগঠন ‘গানে গানে আড্ডা’র শিল্পীদের অংশগ্রহণও আয়োজনটিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। সবশেষে সমবেত পরিবেশনায় ‘মরু বিজয়ের কেতন উড়াও’ গান দিয়ে শেষ হয় ‘বর্ষামুখর সন্ধ্যা’।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow