রম্যগল্প: চালাক ছেলে আর বোকা মা

  নাজিফা রাসেল স্বপ্না একটা ছোট্ট গ্রামে বাস করতো এক মা আর তার ছেলে। ছেলেটার নাম রোহান। বয়স পাঁচ-ছয় হবে। কিন্তু বুদ্ধি? উফ! পুরো দশটা মানুষের সমান! আর তার মা? মানুষটা খুব ভালো, কিন্তু একটু… মানে… একটু না, বেশ অনেকটাই বোকা টাইপ।গ্রামের লোকজন মাঝে মাঝে মজা করে বলতো, রোহানের মা না থাকলে রোহান এত চালাক হতো না! কারণ মা যত ভুল করতো, রোহান তত ঠিক করতো। প্রথম ঘটনা: খিচুড়ি একদিন সকালে মা রান্না করছে। রোহান পাশে বসে আঁকাআঁকি করছে। মা বললো, রোহান, আমি আজ খুব মজার খিচুড়ি রান্না করবো! রোহান মাথা তুলে বললো, আচ্ছা মা, কিন্তু গতবারের মতো যেন চিনি না দাও!মা হেসে বললো, আরে না রে! আমি কি এতটাই বোকা?কিছু সময় পর… রোহান একটা চামচ দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে মুখ কুঁচকে বললো, মা… আবার চিনি দিছো?মা হাঁ করে তাকিয়ে বললো, ওইটা কি চিনি ছিল নাকি?রোহান বললো, হ্যাঁ মা! লবণের ডিব্বায় লেখা ছিল ‘লবণ’, আর তুমি নিলে যেটায় ফুল আঁকা আছে! ওটায় চিনি ছিল।মা মাথা চুলকে বললো, ওটা সুন্দর লাগছিল তো!রোহান হেসে বললো, সুন্দর মানেই ভালো না মা! দ্বিতীয় ঘটনা: ছাতা নিয়ে রোদে বের হওয়া একদিন মা বললো, চল রোহান, বাজারে যাই।রোহান খুশি হয়ে দৌড় দিলো। মা এ

রম্যগল্প: চালাক ছেলে আর বোকা মা

 

নাজিফা রাসেল স্বপ্না

একটা ছোট্ট গ্রামে বাস করতো এক মা আর তার ছেলে। ছেলেটার নাম রোহান। বয়স পাঁচ-ছয় হবে। কিন্তু বুদ্ধি? উফ! পুরো দশটা মানুষের সমান! আর তার মা? মানুষটা খুব ভালো, কিন্তু একটু… মানে… একটু না, বেশ অনেকটাই বোকা টাইপ।
গ্রামের লোকজন মাঝে মাঝে মজা করে বলতো, রোহানের মা না থাকলে রোহান এত চালাক হতো না! কারণ মা যত ভুল করতো, রোহান তত ঠিক করতো।

প্রথম ঘটনা: খিচুড়ি

একদিন সকালে মা রান্না করছে। রোহান পাশে বসে আঁকাআঁকি করছে। মা বললো, রোহান, আমি আজ খুব মজার খিচুড়ি রান্না করবো!
রোহান মাথা তুলে বললো, আচ্ছা মা, কিন্তু গতবারের মতো যেন চিনি না দাও!
মা হেসে বললো, আরে না রে! আমি কি এতটাই বোকা?
কিছু সময় পর… রোহান একটা চামচ দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে মুখ কুঁচকে বললো, মা… আবার চিনি দিছো?
মা হাঁ করে তাকিয়ে বললো, ওইটা কি চিনি ছিল নাকি?
রোহান বললো, হ্যাঁ মা! লবণের ডিব্বায় লেখা ছিল ‘লবণ’, আর তুমি নিলে যেটায় ফুল আঁকা আছে! ওটায় চিনি ছিল।
মা মাথা চুলকে বললো, ওটা সুন্দর লাগছিল তো!
রোহান হেসে বললো, সুন্দর মানেই ভালো না মা!

দ্বিতীয় ঘটনা: ছাতা নিয়ে রোদে বের হওয়া

একদিন মা বললো, চল রোহান, বাজারে যাই।
রোহান খুশি হয়ে দৌড় দিলো। মা একটা ছাতা নিয়ে বের হলো।
রোহান বললো, মা, আজ তো রোদ!
মা গম্ভীর হয়ে বললো, হ্যাঁ তো! রোদে ছাতা লাগে না?
রোহান বললো, রোদে লাগে, কিন্তু তুমি ছাতাটা উল্টা ধরে আছো!
মা তাকিয়ে দেখে সত্যিই ছাতাটা উল্টা!
মা হেসে বললো, আরে আমি ভাবছিলাম বাতাস ঢুকবে ভালো!
রোহান মাথা নাড়িয়ে বললো, তুমি না থাকলে এই পৃথিবী খুব বোরিং হতো মা!

তৃতীয় ঘটনা: মোবাইল ফ্রিজে!

একদিন রোহান মায়ের মোবাইল খুঁজে পাচ্ছেনা।
মা, তোমার ফোন কোথায়?
মা বললো, আমি তো এখানে রেখেছিলাম!
অনেক খোঁজাখুঁজির পর… রোহান ফ্রিজ খুলে দেখে মোবাইল ফ্রিজের ভিতরে!
মা!!! ফোন ফ্রিজে কেন? মা একটু লজ্জা পেয়ে বললো, আমি ভাবছিলাম, চালাতে চালাতে মোবাইল গরম হয়ে গেছে, তাই ভাবলাম ঠান্ডা হলে ভালো চলবে!
রোহান হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়ে, মা, এটা মোবাইল ফোন, আইসক্রিম না!

চতুর্থ ঘটনা: স্কুলের হোমওয়ার্ক

একদিন রোহানের হোমওয়ার্ক ছিল আমার পরিবার নিয়ে লিখতে।
মা বললো, আমি লিখে দিই?
রোহান একটু ভয় পেলো, কিন্তু রাজি হলো। মা লিখলো, আমার পরিবারে আমি আর আমার মা আছি। মা খুব ভালো, কিন্তু মাঝে মাঝে বুদ্ধি কম কাজ করে।
রোহান পড়েই বললো, মা! তুমি নিজেই নিজের নামে নালিশ লিখছো?
মা বললো, সত্যি কথা লিখতে হয় না?
রোহান হেসে বললো, হয়, কিন্তু সব সত্যি লেখা যায় না!

পঞ্চম ঘটনা: রোহানের বুদ্ধি

একদিন পাশের বাড়ির খালা এসে বললো, তোমার ছেলে খুব চালাক!
মা গর্ব করে বললো, হ্যাঁ! আমার ভুল না থাকলে, রোহান এত কিছু শিখতো কি করে! আমার ছেলে তো আমার হোম টিচার!
রোহান পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসলো। আর মনে মনে ভাবলো আমার মা আসলে বোকা না… সে একটু অন্যরকম।

শেষ দিনের ঘটনা: রোহানের জ্বর

একদিন রোহান খুব অসুস্থ হয়ে গেলো। জ্বর, কাশি সারাদিন শুয়ে আছে। সেই দিনটা অন্যরকম ছিল। মা একদম চুপচাপ হয়ে গেলো। কোনো ভুল না করে, ধীরে ধীরে সব কাজ করতে লাগলো। রোহানকে ওষুধ সময়মতো দিলো। রোহানের জন্য রোহানের পছন্দের সব খাবার রান্না করলো। ডাক্তারের কথা ঠিকমতো শুনলো। রোহানের কপালে ভেজা কাপড় দিলো। একটুও ভুল করলো না।

রোহান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সে বললো, মা… তুমি আজ কোনো ভুল করছো না কেন? মা হাসলো, ছলছল চোখ নিয়ে বললো, কারণ আমার রোহান অসুস্থ… আজ আমাকে একদম ঠিক থাকতে হবে। সেই রাতটা মা একটুও ঘুমায়নি। শুধু ছেলের পাশে বসে ছিল।

সকালে রোহানের জ্বর একদম কমে গেলো। সে ধীরে ধীরে উঠে বসলো। মা ক্লান্ত চোখে হাসলো, কেমন লাগছে এখন? রোহান উঠে বসে, মা কে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। তার ছোট্ট গলায় ভরা আবেগ এইতো আমার মা… আমার সুপারহিরো। আমার বাবা নাই তাতে কি। আমার মা তো আছে। তুমিই আমার মা… তুমিই আমার বাবা।

মা কিছু বলতে পারলো না। শুধু ছেলেকে জড়িয়ে ধরে সুন্দর মুহুর্ত টা উপভোগ করতে লাগলো। আর সেই মুহূর্তে, গ্রামের সবচেয়ে বোকা মা-টাই রোহানের কাছে। সবচেয়ে পারফেক্ট মা হয়ে গেলো।

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow