রাগীব হাসানের গুচ্ছ কবিতা
১. বাঁশবাগানে নিলিখসূর্য ডুবে আছে — আমরা গুপ্ত হতে গিয়ে আবার প্রকাশ্যে ফিরি এলাম — পর্নো ছবি ফিরিয়ে আনল বিশাখা জানে, বিশাখা কেন হাসি গোপন করে অনুমান হয় রাত্রির ধাতবচাঁদ, কুয়াশালিপ্ত লিচুগাছের শিখরে ঝুলে থাকা টিনের ধ্বনি — তাকে নীল জগতে টেনে আনতে চেয়েছিল, প্রত্যেক গ্রীষ্মে ট্রেনের ধ্বনিকে মনে হয়েছে গুল্মঘ্রাণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা —গর্ভকূপে ফেলে দেওয়া ঝরাপাতা ২. একটা দূরে তাকিয়ে থাকি, লালগোলা ব্রিজ হাওয়ায় কেঁপে ওঠে—শালবনের পাতাও কেঁপে ওঠে ওই কবন্ধ ছায়া ছায়া পথ, কিছুটা শীতহিম কতগুলো চিহ্নতীর বারবার ছিদ্র করে যায়— ভোরবেলা, ভোরবেলার গাছ, ভোরবেলার ইশকুল, ভোরবেলার পুকুরের হাঁস, হাঁসদের যৌনবিরোধ কার পদযুগল ভিজে যায় হিমঠাণ্ডা জলরেখায় নীরব জলরেখা, মৃদুহাওয়া উঠছে, এবার মুর্চ্ছা যাও তার পদযুগলে, শাদা শাদা পদযুগলে একটা দূর নীরবতা ঝুলে আছে, শূণ্যে ভেঙ্গে পড়ে মেঘের বাড়ি লালগোলা ব্রিজ কাঁপে, নীরবতায় কাঁপে কী? নীল কুয়াশায় সাইকেল চালিয়ে এলে, থামলে... নীল কুয়াশায় গলে পড়ে ইঞ্জিনের পাকদণ্ডি ধুয়া লম্বা লম্বা সব নারকেল গাছ... শীতের বাগানে আরও ঘন শীত শীতের বাগানে জ্বলে ওঠে চিন্
১.
বাঁশবাগানে নিলিখসূর্য ডুবে আছে —
আমরা গুপ্ত হতে গিয়ে আবার
প্রকাশ্যে ফিরি এলাম — পর্নো ছবি ফিরিয়ে আনল
বিশাখা জানে, বিশাখা কেন হাসি গোপন করে অনুমান হয় রাত্রির
ধাতবচাঁদ, কুয়াশালিপ্ত লিচুগাছের শিখরে ঝুলে থাকা টিনের ধ্বনি —
তাকে নীল জগতে টেনে আনতে চেয়েছিল,
প্রত্যেক গ্রীষ্মে ট্রেনের ধ্বনিকে মনে হয়েছে
গুল্মঘ্রাণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা —গর্ভকূপে ফেলে দেওয়া ঝরাপাতা
২.
একটা দূরে তাকিয়ে থাকি, লালগোলা ব্রিজ
হাওয়ায় কেঁপে ওঠে—শালবনের পাতাও কেঁপে ওঠে
ওই কবন্ধ ছায়া ছায়া পথ, কিছুটা শীতহিম
কতগুলো চিহ্নতীর বারবার ছিদ্র করে যায়—
ভোরবেলা, ভোরবেলার গাছ, ভোরবেলার ইশকুল,
ভোরবেলার পুকুরের হাঁস, হাঁসদের যৌনবিরোধ
কার পদযুগল ভিজে যায় হিমঠাণ্ডা জলরেখায়
নীরব জলরেখা, মৃদুহাওয়া উঠছে, এবার
মুর্চ্ছা যাও তার পদযুগলে, শাদা শাদা পদযুগলে
একটা দূর নীরবতা ঝুলে আছে, শূণ্যে ভেঙ্গে পড়ে মেঘের বাড়ি
লালগোলা ব্রিজ কাঁপে, নীরবতায় কাঁপে কী?
নীল কুয়াশায় সাইকেল চালিয়ে এলে, থামলে...
নীল কুয়াশায় গলে পড়ে ইঞ্জিনের পাকদণ্ডি ধুয়া
লম্বা লম্বা সব নারকেল গাছ...
শীতের বাগানে আরও ঘন শীত
শীতের বাগানে জ্বলে ওঠে চিন্তাজগত
রেললাইনের ওপার থেকে ভেসে আসে কার দেহের সুগন্ধি...
৩.
পেঁজা তুলো, তার দেহের শিরা-উপশিরা বলে দিতে চায়
আকাশকালোমেঘ — নিচু হয়ে নেমে আসে তার নিঃঝুম বনে
প্রকা- আলোর দরজা দেখে — পুস্তকের ওপরে সেই অন্ধকার দরজার
চিত্র দ্রুত দেখতে পাও কী, চিরহরিৎ, মেঘ নিচু হবে
বাজারের মুখে গোধূলি ডুবে যাবার সংবাদ আসবে
যে নির্ণয়নিরিখে— তাকে জানতাম গীতকবিতা
পাথরের গুহায় শুয়ে থেকে মনে হয়— কাপড় বাজারে
আশোক দা তার ক্ষুদ্র বস্ত্রালয়ের দোকান থেকে আমাকে ডাকছে...
What's Your Reaction?