রাজনীতি যেন রোজগারের বিষয় না হয়: ওসমান ফারুক
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, ‘যারা রাজনীতি করছেন মানুষের উন্নয়নে যেন তারা তাদের সময় কাটান। রাজনীতি যেন রোজগারের বিষয় না হয়। আমি বিশ্বাস করি যে, রাজনীতি রোজগারের বিষয় হতে পারে না। এই চিন্তা থেকে আমি দাবি করি, আমার আশপাশে যারা আছেন তারা সেই উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করবেন। যেন অপর মানুষের উন্নতি হয়।' মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী মুদির বাজারে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যা দেখছি বর্তমান সরকারের দিক থেকে একটা কমিটমেন্ট আছে, অঙ্গীকার আছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার। কারণ বিদেশে যে ধরনের একটা মত চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে, এখনো যদি আমরা গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ করতে না পারি, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ভাবমূর্তি অত্যন্ত ক্ষুন্ন হবে। সেজন্য আমি মনে করি সরকার ঠিক পথেই চলছে।' তিনি বলেন, 'ইউনুস সাহেব ইউনিভার্সিটিতে আমার তিন বছরের বড়। উনাকে আমি জানি। উনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দেশের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সরকার যত চেষ্টাই করুক জনসাধারণ যদি সহযোগিতা না করে তাহলে
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, ‘যারা রাজনীতি করছেন মানুষের উন্নয়নে যেন তারা তাদের সময় কাটান। রাজনীতি যেন রোজগারের বিষয় না হয়। আমি বিশ্বাস করি যে, রাজনীতি রোজগারের বিষয় হতে পারে না। এই চিন্তা থেকে আমি দাবি করি, আমার আশপাশে যারা আছেন তারা সেই উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করবেন। যেন অপর মানুষের উন্নতি হয়।'
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী মুদির বাজারে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যা দেখছি বর্তমান সরকারের দিক থেকে একটা কমিটমেন্ট আছে, অঙ্গীকার আছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার। কারণ বিদেশে যে ধরনের একটা মত চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে, এখনো যদি আমরা গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ করতে না পারি, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ভাবমূর্তি অত্যন্ত ক্ষুন্ন হবে। সেজন্য আমি মনে করি সরকার ঠিক পথেই চলছে।'
তিনি বলেন, 'ইউনুস সাহেব ইউনিভার্সিটিতে আমার তিন বছরের বড়। উনাকে আমি জানি। উনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দেশের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সরকার যত চেষ্টাই করুক জনসাধারণ যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তো সেটা সফল হবে না। কাজেই আমার আপামর জনসাধারণের প্রতি আবেদন থাকবে, আপনারা এই দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করা, দারিদ্র্য বিমোচন করা এবং সর্বজন মানুষের উন্নতি করার ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা করবেন।' তিনি আরো বলেন 'আমি মনে করি বর্তমান সরকার এবং ইউনুস সাহেব যিনি আমার খুবই পরিচিত মানুষ, উনি অত্যন্ত বিশ্বাসী, উনি চাইছেন দেশে একটা পরিবর্তন আসুক। আপনারা দয়া করে দেশে যে একটা পরিবর্তন আসছে সেটাকে সহায়তা করবেন। আমি মনে করি এর ফলে এ দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।'
জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে ড. ওসমান ফারুক বলেন, 'আমি দলের এমন অবস্থানে নাই, যে এই বিষয়ে আমি বলতে পারি। দলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। দলের সম্পর্কে আমি বলব, না এইটা দলীয়ভাবে একটা সিদ্ধান্ত আসা উচিত।'
ড. ওসমান ফারুক মঙ্গলবার দুপুরে দুইটা থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। রাতে শেষ করেন। এ সময় তিনি দলের বেশ কয়েকটা নির্বাচনী অফিস পরিদর্শন ও পথসভায় যোগ দেন। এর মধ্যে জয়কা ইউনিয়নের সাদকখালি মোড়ে গণসংযোগ, নানশ্রী সরকার বাড়ি মোড়ে গণসংযোগ ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শিহাব উদ্দিন সরকারের কবর জিয়ারত, দক্ষিণ নানশ্রী কদমতলী বাজারে গণসংযোগ ও নির্বাচনী অফিস পরিদর্শন, কান্দাইল ও মথুরাপাড়া গ্রামে গণসংযোগ এবং বালিয়াবাড়ি বাজারে পথসভা উল্লেখযোগ্য।
এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করে ধানের শীষে ভোট চান। নানশ্রী মুদিরবাজারে পথসভায় দলের বিপুলসংখ্যক নারীকর্মীদের উপস্থিতি দেখে ওসমান ফারুক বলেন, 'আমি আমেরিকাতে মেলা জনসভা দেখেছি, অন্যান্য জনসভাও দেখেছি। মহিলারা আসে, তবে সেই পরিমানে আসে না। বাংলাদেশও অনেক জনসভা দেখেছি। কিন্তু আজকে আমি আমার মা বোনদের সালাম জানাই। কারণ এখানে আজকে পুরুষ যত এসেছে তার চেয়ে তারা অনেক বেশি এসেছে। এইখানে একটা আশা আমার মনে জাগে যদি পুরুষরা দেশের কাজ করে আর মহিলারা যদি বসে থাকে সেই দেশের এবং জাতির উন্নতি হয় না। কাজেই দেশের যে কোনো কাজে মা বোনদের সম্মানের জায়গায় রাখা উচিত।' নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে ড. ওসমান ফারুক বলেন, 'নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর জনসাধারণের কথা যদি বলেন, তাহলে আমি বলব যে, নির্বাচন সামনে রেখে মানুষ উৎসবে আছে। এখন সব নির্ভর করবে সরকারি নির্বাচনযন্ত্র কেমনভাবে নির্বাচন করবে সেটাই।''
নিজের রাজনীতি সম্পর্কে ওসমান ফারুক বলেন, 'আমার পিতা ড. ওসমান গনি বলতেন বিদেশে যত বড় চাকরিই করো শেষ জীবনটা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে। এখানে অনেক মানুষই আছেন, আমাকে সুদ্ধ অনেক মানুষই আছেন, একসময় আমরা রাজনীতিতে এক্টিভ ছিলাম না। আমি আমার জীবনে রাজনীতি শুরু করেছি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। বিশ্বব্যাংকে আমি চাকরি করতাম। আমি অনেক দলেই যোগ দিতে পারতাম। আমার বন্ধুবান্ধব বেশিরভাগই সরকারি দলে ছিল। খালেদা জিয়ার হাত ধরে আমি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়েছি। জিয়াউর রহমান, তারপর খালেদা জিয়া, তারপরে তারেক জিয়া। যে দলে এদের মতো নেতৃত্ব আছে সেই দলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমার আবেদন থাকবে দেশের উন্নয়নে যারা বেশি কাজ করতে পারবে, যারা অবদান রাখতে পারবে সেদিকে যেন আপনাদের সমর্থন যায়।'
বিএনপি সম্পর্কে তিনি বলেন, ' আমাদের দল একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করে। এবং সেই রাজনীতি হলো আপামর জনসাধারণ তথা সকল মানুষের উন্নতি করা, দেশের উন্নতি করা। অন্য দলও এই উদ্দেশ্যে রাজনীতি করে। তবে আমি মনে করি অন্য যেসব দল আছে তাদের চেয়ে আমরা আরো এগিয়ে আছি জনমানুষের কাজে। আপনাদেরকে এই কথাই বলব, আনুগত্যের কথা বলব না, আপনারা এই দলের প্রতি সাহায্য জোগাড় করবেন।' গণসংযোগ ও পথসভায় ওসমান ফারুকের সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। তিনি এ আসনে (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত) বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এরপরে দলের নির্দেশে তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ধানের শিষের পক্ষে মাঠে নামেন।
অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জালাল মোহাম্মদ গাউস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফীউজ্জামান শফী, করিমগঞ্জ পৌর বিএনপি'র সভাপতি আশরাফ হোসেন পাভেল, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসাইন খান পল্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এডভোকেট মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুখছেদুল মমিন সবুজ, মো: আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।
What's Your Reaction?