রাজপথ থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় তারিক

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় কর্মসূচি পালনে রাজপথ থেকে কখনও একচুলও পিছু হটেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, হামলা-মামলা, গুলির ক্ষত এবং একইসঙ্গে মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুপরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় এখন তার নাম সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তারিক যেন তৃণমূলের কর্মীদের আস্থা করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তারিক বলেন, আমি নিজেকে ছাত্রদলের একজন কর্মী মনে করি। ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। কখনোই আমি পিছু হটিনি। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যদি ছাত্রদলের জন্য আমাকে যোগ্য মনে করেন আমি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। আশা করি দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। রাজপথের ত্যাগের রাজনীতি জানা যায়, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন তারিক

রাজপথ থেকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় তারিক

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় কর্মসূচি পালনে রাজপথ থেকে কখনও একচুলও পিছু হটেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, হামলা-মামলা, গুলির ক্ষত এবং একইসঙ্গে মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুপরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় এখন তার নাম সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তারিক যেন তৃণমূলের কর্মীদের আস্থা করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তারিক বলেন, আমি নিজেকে ছাত্রদলের একজন কর্মী মনে করি। ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। কখনোই আমি পিছু হটিনি। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যদি ছাত্রদলের জন্য আমাকে যোগ্য মনে করেন আমি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। আশা করি দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।

রাজপথের ত্যাগের রাজনীতি

জানা যায়, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন তারিক। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার হামলা, নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার হন তিনি।

তার অনুসারীদের তথ্যমতে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানেও তিনি শরীরে ৯টি গুলি বহন করছেন ছাত্রদলের এই পরিচিত মুখ। শুধু তাই নয়, দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে কখনো গ্রামের বাড়িতেও যেতে পারেননি তিনি। এই সময়ে তিনি তার পিতাকেও হারিয়েছেন। কিন্তু শেষবারের মতো বাবার মুখটিও দেখতে পারেননি তারিক।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ৫ আগস্ট শাহবাগ অভিমুখে আন্দোলনকারীদের প্রথম মিছিলটির নেতৃত্বে তিনি ছিলেন বলে তার সহযোদ্ধারা জানান। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে গঠিত চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স বা সিএসএফের দায়িত্বেও (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে) তাকে দেখা গেছে, যা তার প্রতি সাংগঠনিক আস্থার প্রকাশ ঘটায়।

শিক্ষার্থীবান্ধব ও সামাজিক উদ্যোগ

রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভিন্নধর্মী নজির স্থাপন করেছেন ছাত্রদল নেতা তারিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমন্ডির নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীসহ একাধিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীর ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ পরিচালনা নিশ্চিত করেন তিনি।

পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচির আয়োজন, ডাস্টবিন স্থাপন, বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক প্লাকার্ড সাঁটানো, সবুজ ক্যাম্পাস বিনির্মানে বৃক্ষরোপন, সুপেয় পানির জন্য ইলেকট্রিক ফিল্টার স্থাপন, আন্তঃব্যাচ ফুটসাল আয়োজন, ঢাবির অন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে জয়ী দলকে জোড়া খাসি উপহার, ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ডিজিটাল দেয়ালঘড়ি স্থাপন করেন।

এছাড়াও চলাচলের নিরাপত্তায় বুয়েটের পলাশী বাজার এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল উদ্যোগ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার সময় জগন্নাথ হলে নিজ হাতে লেখা শুভেচ্ছা বার্তা ও সহায়তা পৌঁছে দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করেছেন।

মানবিক কর্মকাণ্ড ও সেবা

জানা যায়, রাজনীতির পাশাপাশি তারিকের মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক। তার মানবিক কাজের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো রক্তদান কর্মসূচি। তিনি নিজে ৪৪ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন এবং সহস্রাধিক সংকটাপন্ন রোগীর রক্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় তিনিও এমন মানবিক কাজ করেছেন। যা সেসময় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি, সঙ্কটাপন্ন রোগীর জন্য আইসিইউ’র ব্যবস্থা এবং অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসায় নিয়মিত কাজ করছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত সহযোদ্ধাদেরকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন এবং নিহত ও আহত কয়েকজনের পরিবারকে উপহার দিয়েছেন। 

একইসঙ্গে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় খাবার বিতরণ, মাদ্রাসায় পবিত্র কুরআন শরীফ প্রদান, প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি পরিচালনায় তার সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।

নেতৃত্বের আলোচনায়

আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, মাঠের সক্রিয়তা এবং নিয়মিত মানবিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তারিকের নাম। শেষ পর্যন্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই তার পদবি নির্ধারণ করবে, তবে রাজনৈতিক ত্যাগের পাশাপাশি মানবিক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে ইতোমধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তরিকুল ইসলাম তারিক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow