রাজশাহীতে এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘট, গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি চরমে

সারাদেশে প্রশাসন অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন রাজশাহীর ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ডিপো ও খুচরা দোকানগুলো বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম সংকটে পড়েছেন বাসাবাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এদিকে ধর্মঘটের কারণে রান্নাবান্না ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাও না থাকায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব বিপদে পড়েছি। বাসায় সিলিন্ডার ছাড়া রান্নার কোনো বিকল্প নেই। দোকান থেকে গ্যাস নিতে এসে দেখি সব বন্ধ। এখন কীভাবে রান্না করব বুঝতে পারছি না। শিরোইল এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, প্রতিদিন গ্যাস দিয়েই হোটেলের সব রান্না হয়। আজ সকাল থেকে

রাজশাহীতে এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘট, গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি চরমে

সারাদেশে প্রশাসন অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন রাজশাহীর ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ডিপো ও খুচরা দোকানগুলো বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।

এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম সংকটে পড়েছেন বাসাবাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে রান্নাবান্না ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাও না থাকায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব বিপদে পড়েছি। বাসায় সিলিন্ডার ছাড়া রান্নার কোনো বিকল্প নেই। দোকান থেকে গ্যাস নিতে এসে দেখি সব বন্ধ। এখন কীভাবে রান্না করব বুঝতে পারছি না।

শিরোইল এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, প্রতিদিন গ্যাস দিয়েই হোটেলের সব রান্না হয়। আজ সকাল থেকে গ্যাস না পেয়ে দোকান খুলতে পারিনি। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরা টিকতে পারবে না।

রাজশাহীতে এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘট, গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি চরমে

নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, অফিসে যাওয়ার আগে রান্না করে বের হতে হয়। কিন্তু গ্যাস না থাকায় সকালে অনেক ভোগান্তি হয়েছে। হঠাৎ করে এভাবে সরবরাহ বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের কষ্টটাই সবচেয়ে বেশি হয়।

রাজশাহী এলজিবি ব্যবসায়ী সমিতের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রাজশাহীতেও সব ধরনের গ্যাস ডেরিভারি বন্ধ আছে। পাশাপাশি কোনো গ্যাস না থাকায় আমার সরবরাহ দিতে পারছি না।

রাজশাহীতে এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘট, গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি চরমে

তিনি আরও বলেন, মালিক সমিতির আজ বিকেলে মিটিং আছে। সেখানে যদি প্রত্যাহারও হয় তবুও রাজশাহীতে আজ গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ গ্যাস যতক্ষণ আমাদের সরবরাহ না দিতে পারবে ততক্ষণ আমার দিতে পারবো না। রাজশাহীতে প্রতিদিন ৫০ হাজার সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা থাকে। এখন কোনো গ্যাসই নেই।

উল্লেখ্য, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে একটি নোটিশ জারি করে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এর আগে একই দিন সকালে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি।

নোটিশে জানানো হয়, ৮ জানুয়ারি থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সব এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow