রাত কেটে যায় গ্যাসের লাইনে, ‘দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা’ বলছেন ভুক্তভোগীরা

গতকাল বুধবার দিনগত রাত ৩টায় গাড়িতে গ্যাস নিতে রাজধানীর মালিবাগে ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেটকার চালক গোলাম হোসেন। গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশার লাইন চলে যায় পুলিশ হাসপাতাল পর্যন্ত। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত লাইনে ছিলেন তিনি। এরপর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় গ্যাস হবে না। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘুম ঘুম চোখে জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন গোলাম হোসেন। অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আরও কয়েকটি পাম্প ঘুরে মগবাজারে এক পাম্প থেকে গ্যাস নিতে দাঁড়িয়েছি। মাঝে কিছু সময় রমনা পার্কের পার্কিংয়ে গিয়ে একটু ঘুমিয়েছি। সামনে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত শতাধিক গাড়ির লম্বা লাইন, এ লাইন পেরিয়ে গ্যাস পাবো কি না জানি না। আরও পড়ুন এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি / গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, অনেক স্টেশন বন্ধ গোলাম হোসেন বলেন, এ সংকট কয়েক দিনের নয়; ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে চলছে। তবে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। শুধু গোলাম হোসেন একা নন, তার মতো অসংখ্য গাড়িচালক ও সিএনজি অটোরিকশাচালক গ্যাস নিতে ফিলিং স্টেশনের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কর

রাত কেটে যায় গ্যাসের লাইনে, ‘দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা’ বলছেন ভুক্তভোগীরা

গতকাল বুধবার দিনগত রাত ৩টায় গাড়িতে গ্যাস নিতে রাজধানীর মালিবাগে ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেটকার চালক গোলাম হোসেন। গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশার লাইন চলে যায় পুলিশ হাসপাতাল পর্যন্ত। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত লাইনে ছিলেন তিনি। এরপর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় গ্যাস হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘুম ঘুম চোখে জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন গোলাম হোসেন।

অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আরও কয়েকটি পাম্প ঘুরে মগবাজারে এক পাম্প থেকে গ্যাস নিতে দাঁড়িয়েছি। মাঝে কিছু সময় রমনা পার্কের পার্কিংয়ে গিয়ে একটু ঘুমিয়েছি। সামনে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত শতাধিক গাড়ির লম্বা লাইন, এ লাইন পেরিয়ে গ্যাস পাবো কি না জানি না।

গোলাম হোসেন বলেন, এ সংকট কয়েক দিনের নয়; ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে চলছে। তবে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়েছে।

শুধু গোলাম হোসেন একা নন, তার মতো অসংখ্য গাড়িচালক ও সিএনজি অটোরিকশাচালক গ্যাস নিতে ফিলিং স্টেশনের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

গত কয়েক দিন তীব্র গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও গ্যাসনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চালকরা।

অনেককে এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেক ফিলিং স্টেশনে ঘুরতে হচ্ছে। এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও মিলছে না গ্যাস। এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের ওপর।

দীর্ঘ অপেক্ষায় তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, কমছে আয়, বাড়ছে ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবু মিলছে না গ্যাস।

কথা হয় পিকআপচালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, দুপুর ১টা ৫ মিনিটে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ৩টা ২৬ বাজে, এখনো দাঁড়িয়ে আছি। আরও দুই-তিন ঘণ্টা লাগতে পারে। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে দুইটায় দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গ্যাস পেয়েছি। তা-ও মাত্র ২৫০ টাকার। অন্য সময় ৭০০ টাকার মতো গ্যাস নেওয়া যায়।

jagonews24.com

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় শাহবাগে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে পরে মহাখালী ঘুরে পরিবাগের এক ফিলিং স্টেশনে আসেন। সেখানেও আড়াই ঘণ্টা কেটে গেছে।

তার ভাষায়, এক পাম্পে গ্যাস নেই, আরেক পাম্পে যেতে হচ্ছে। কখন গ্যাস পাবো- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সারাদিন ঘুরেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়।

মগবাজারে ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়ানো আরেক চালক টিটু মিয়া বলেন,খাওয়া-দাওয়া নেই, বিশ্রাম নেই। কখন গ্যাস আসবে, কেউ বলতে পারে না। অনেক সময় নামাজও পড়তে পারি না। শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চালক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কথা বলা হলেও আসলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। পেট্রোল সংকটের মতো পরিবেশ তৈরি করে দাম বাড়ানো হবে।

বাড়ছে খরচ, কমছে আয়

সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, সংকটের কারণে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আগের মতো গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে একটি ৬০ লিটারের সিলিন্ডারে আগে প্রায় ৭০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও সেই পরিমাণ গ্যাস মিলছে না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিনের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও

গ্যাস সংকটের কারণে শুধু সিএনজি ফিলিং স্টেশন নয়, রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতেও রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। অনেক পরিবার নির্ধারিত সময়ে রান্না করতে পারছে না। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর লালবাগের গৃহবধূ সুলতানা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এমনিতেই গ্যাস পাই না, আগে রাতে কিছুটা হলেও পেতাম। গত দুদিন তা-ও পাই না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে বাসাবাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক— সব ক্ষেত্রেই সংকট দেখা দিয়েছে।

চালক ও ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা আরও অচল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং নগরজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এমইউ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow