রাত পোহালেই ভোট, শৈলকুপায় স্বস্তির হাওয়া
রাত পোহালেই ভোট। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। কিন্তু ভোটের উত্তাপ থাকলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় নেই আতঙ্ক, নেই উত্তেজনা। নির্বাচনের আগের রাতেও উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে শান্ত পরিবেশ। বইছে স্বস্তির হাওয়া, নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছে মানুষ। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত নির্বাচনী গুঞ্জন চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত। ঝিনাইদহ-১ আসনটি বরাবরই আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমানের মধ্যে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩০৪টি গ্রামে মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন ভোটার রয়েছেন। শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, হামলা-মামলা, পাল্টাপাল্টি ভাঙচুর ও রক্তপাতের কারণে আলোচিত ছিল শৈলকুপা। তবে গত দেড় বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না থাকায় বদলেছ
রাত পোহালেই ভোট। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। কিন্তু ভোটের উত্তাপ থাকলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় নেই আতঙ্ক, নেই উত্তেজনা। নির্বাচনের আগের রাতেও উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে শান্ত পরিবেশ। বইছে স্বস্তির হাওয়া, নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছে মানুষ।
শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত নির্বাচনী গুঞ্জন চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত। ঝিনাইদহ-১ আসনটি বরাবরই আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমানের মধ্যে।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩০৪টি গ্রামে মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন ভোটার রয়েছেন। শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, হামলা-মামলা, পাল্টাপাল্টি ভাঙচুর ও রক্তপাতের কারণে আলোচিত ছিল শৈলকুপা। তবে গত দেড় বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না থাকায় বদলেছে পরিস্থিতি। কমেছে থানায় যাতায়াত, কোর্ট-কাছারি দৌড়ঝাঁপ। বেড়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি।
নারী ভোটারদের উপস্থিতি এবং প্রচারে অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে আলাদা করে চোখে পড়েছে। গ্রাম থেকে মহল্লা-সবখানেই দলে দলে নারীদের ভোট প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরে ঘরে ভোট প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিবিড়ভাবে মাঠে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা। বিশেষ করে নারী ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন- মার্কসবাদী দলের কাঁচি প্রতীকের সহিদুল এনাম পল্লব, এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের মতিয়ার রহমান এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মনিকা আলম।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর সহিংস শৈলকুপার চিরচেনা রূপ আর চোখে পড়ছে না। বরং উপজেলা এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি ‘মডেল’ নির্বাচনী এলাকায় রূপ নিয়েছে।
প্রচারের শেষ দিনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ভোট ডাকাতের এমপি হতে চাই না। আমার কোনো পোলিং এজেন্ট বা কর্মী যদি অন্যায় কিছু করার চেষ্টা করে, সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে বলেছি।’
সব মিলিয়ে ভোটের আগের রাতেও শৈলকুপায় বিরাজ করছে শান্ত পরিবেশ, যা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?