রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আগ্রবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এ অনুরোধ জানান। চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী তথা চেম্বার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত এই পরিচালনা পর্ষদ ব্যবসায়ীদের কল্যাণে সরকারের সঙ্গে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করা হবে। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন বলেন, জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ট্যাক্স ও ভ্যাটের মাধ্যমে। সেই রাজস্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। য

রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আগ্রবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা এ অনুরোধ জানান।

চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী তথা চেম্বার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত এই পরিচালনা পর্ষদ ব্যবসায়ীদের কল্যাণে সরকারের সঙ্গে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করা হবে। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন বলেন, জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ট্যাক্স ও ভ্যাটের মাধ্যমে। সেই রাজস্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। যার সুফল ভোগ করে দেশের আপামর জনসাধারণ। তাই ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিভিন্ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ট্যাক্স, ভ্যাট প্রদান ও নানা ধরনের হয়রানির কথা উল্লেখ করে অতীতের মতো চিটাগাং চেম্বারকে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয়ের সিদ্ধান্তে সন্ধ্যা ৭টায় শপিংমল বন্ধ করতে হচ্ছে বিধায় বেচাকেনা কমে গেছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সার্ভিস চার্জ, কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস ইত্যাদি পরিশোধ করার ফলে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। সাধারণত সন্ধ্যার পরে শপিংমলগুলো ক্রেতার উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে।

সরকার নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলার রাখা এবং বর্তমান ভ্যাট প্রদান পদ্ধতি রহিত করে প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট প্রদান প্রথা চালু করতেও চেম্বার নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

চেম্বারের পরিচালক আসাদ ইফতেখারের সঞ্চালনায় সভায় পরিচালক আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. জাহিদুল হাসান, এএসএম ইসমাইল খান ও মো. সেলিম নুর, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সালামত আলী, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম চৌধুরী মিলটন, সদস্য নজরুল ইসলাম মামুন, তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বিপণিবিতান বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ইলিয়াছ চৌধুরী, ফিনলে সাউথ সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব খান, সানমার ওশান সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি মো. সফি, সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান উল্লাহ, মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি কেএম মামুন রাজা, ফিনলে স্কয়ার শপ ওনার্শ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. খালেদ (জুয়েল), কামাল বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার, গোলাম রসুল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আকবর, আক্তারুজ্জামান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব কামাল ও সেন্ট্রাল প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল গফুর পাটওয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, গত ১ জুন বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে দেশের সব শপিং মল, মার্কেট ও দোকান আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে বলা হয়, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে রাত ১০টার পরিবর্তে সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

আদেশে বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এমডিআইএইচ/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow