রাতারাতি ধনী হয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষ!
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং যুদ্ধাবস্থার আসল বিজয়ী কে? আপাতদৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কঠিন হলেও পর্দার আড়ালে একদল মার্কিনি ঠিকই এই পরিস্থিতি থেকে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। তবে তারা কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা খনিজ তেল খাতের করপোরেট জায়ান্ট নন; এরা হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালির পেস্তা বাদাম (Pistachio) চাষি। রিভারডেলের সান জোয়াকিন ভ্যালিতে চার প্রজন্ম ধরে কৃষিকাজ করছে জো কোয়েলহোর পরিবার। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুগ্ধ খামার পরিচালনার পর ২০২১ সালে গরু বিক্রি করে তারা পুরো জমিতে পেস্তা বাদামের গাছ লাগান। ভ্যালির শুষ্ক ও তীব্র গরমে এই ফসলের ফলন চমৎকার হয়। আরও পড়ুন ভারতের ৩ শতাধিক কৃষিপণ্যে ক্যানসারের উপাদান, নিষিদ্ধ দেশে দেশে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্সপানার তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাউন্ড পেস্তা বাদাম রেকর্ড ৫ দশমিক ৩০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি। সুইজারল্যান্ডে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে, ত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং যুদ্ধাবস্থার আসল বিজয়ী কে? আপাতদৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কঠিন হলেও পর্দার আড়ালে একদল মার্কিনি ঠিকই এই পরিস্থিতি থেকে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। তবে তারা কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা খনিজ তেল খাতের করপোরেট জায়ান্ট নন; এরা হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালির পেস্তা বাদাম (Pistachio) চাষি।
রিভারডেলের সান জোয়াকিন ভ্যালিতে চার প্রজন্ম ধরে কৃষিকাজ করছে জো কোয়েলহোর পরিবার। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুগ্ধ খামার পরিচালনার পর ২০২১ সালে গরু বিক্রি করে তারা পুরো জমিতে পেস্তা বাদামের গাছ লাগান। ভ্যালির শুষ্ক ও তীব্র গরমে এই ফসলের ফলন চমৎকার হয়।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্সপানার তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাউন্ড পেস্তা বাদাম রেকর্ড ৫ দশমিক ৩০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি।
সুইজারল্যান্ডে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে, তখন হোয়াইট হাউজ দাবি করছে, এই যুদ্ধ মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করেছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা কিংবা সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যমূল্য কমানোর মতো প্রথাগত পরিমাপকের দিক থেকে বিচার করলে এই যুক্তিতে বড় ধরনের গলদ দেখা যায়। কিন্তু এই সংঘাতের সুবাদে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৯৫০ জন পেস্তা বাদাম চাষির ভাগ্য ঠিকই রাতারাতি বদলে গেছে।
হাজার বছর ধরে ইরানে পেস্তা বাদাম উৎপাদিত হয়ে আসছে এবং বৈশ্বিক বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল তাদেরই। তবে ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যার ফলে আড়াই কোটি পাউন্ড পেস্তা বাদাম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে আশির দশকে মার্কিন চাষিরা ইরানের বিরুদ্ধে কম দামে বাদাম ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তুললে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ২৪১ শতাংশ বিশাল শুল্ক আরোপ করে। এই সুযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার চাষিরা বাজার দখল করে নেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পেস্তা বাদাম উৎপাদনের ৬০ শতাংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাই চকলেটের (যা পেস্তা বাদামের ক্রিম দিয়ে তৈরি) বিশ্বব্যাপী ভাইরাল ট্রেন্ডের কারণে বাদামের দাম ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ৩ দশমিক ২৮ ডলার থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে পরের বছর ৪ দশমিক ১৪ ডলারে পৌঁছায়।
এরপরই শুরু হয় ইরান যুদ্ধ, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের বাদাম রপ্তানি পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। গত ২১ মে পর্যন্ত মাত্র ৩০ দিনে খোসাসহ পেস্তা বাদামের বৈশ্বিক চালান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ কমেছে।
বৈশ্বিক জোগানের এই ঘাটতিই ক্যালিফোর্নিয়ার চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন চাষি কোয়েলহোর কথায়, ‘কেউই যুদ্ধ চায় না, কিন্তু এই সংঘাত বৈশ্বিক জোগানের একটি বড় অংশকে আটকে দিয়েছে এবং আমাদের জন্য বাজার দখলের বড় সুযোগ তৈরি করেছে।’
তবে এই সুদিন কতদিন টিকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনা সফল হলে এবং স্থায়ী শান্তি ফিরে এলে ইরান আবারও পূর্ণ শক্তিতে বাজারে ফিরবে। কারণ দেশটির বাদাম বাগানগুলোর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক নাট অ্যান্ড ড্রাইড ফ্রুট কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তীব্র তাপদাহে এরই মধ্যে অনেক বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলার ওপর নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন পেস্তা চাষিরা সাময়িক বড় মুনাফা পেলেও তা হয়তো খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/
What's Your Reaction?

