রাতে ফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ অন করা চোখের জন্য কতটা নিরাপদ?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ফোনের ডিসপ্লের কিছু সেটিং পরিবর্তন করে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারও আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখের সুরক্ষায় ফোনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেটিংয়ের মধ্যে অন্যতম হলো— ১. নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার চালু করুন আইফোন ও বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ বা ‘নাইট শিফট’ সুবিধা রয়েছে। এই ফিচার স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা বিশেষ করে রাতের দিকে চোখের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক। নাইট মোড চালু রাখলে চোখের ক্লান্তি কমতে পারে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতেও এটি সহায়তা করতে পারে। ২. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সক্রিয় করুন  ফোনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে না রেখে ‘অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস’ বা ‘অটো ব্রাইটনেস’ অপশনটি চালু রাখুন।  এর ফলে আপনার চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে ফোনের স্ক্রিনের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন যেমন চোখের ক্ষতি করে, তেমনই খুব বেশি আবছা আলোও

রাতে ফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ অন করা চোখের জন্য কতটা নিরাপদ?

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ফোনের ডিসপ্লের কিছু সেটিং পরিবর্তন করে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারও আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখের সুরক্ষায় ফোনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেটিংয়ের মধ্যে অন্যতম হলো—

১. নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার চালু করুন

আইফোন ও বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ বা ‘নাইট শিফট’ সুবিধা রয়েছে। এই ফিচার স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা বিশেষ করে রাতের দিকে চোখের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক।

নাইট মোড চালু রাখলে চোখের ক্লান্তি কমতে পারে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতেও এটি সহায়তা করতে পারে।

২. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সক্রিয় করুন 

ফোনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে না রেখে ‘অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস’ বা ‘অটো ব্রাইটনেস’ অপশনটি চালু রাখুন। 

এর ফলে আপনার চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে ফোনের স্ক্রিনের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন যেমন চোখের ক্ষতি করে, তেমনই খুব বেশি আবছা আলোও চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। 

৩. লেখার আকার বা টেক্সট সাইজ বাড়িয়ে নিন

স্ক্রিনে খুব ছোট ছোট লেখা পড়ার কারণে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে। ফোনের ‘ফন্ট সাইজ’ এবং ‘ডিসপ্লে স্কেলিং’ বাড়িয়ে নিলে লেখাগুলো বড় দেখায়, যা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের পরও চোখের ক্লান্তি অনেকাংশে দূর করে। 

৪. ডার্ক মোড ব্যবহার করুন 

কম আলোতে বা রাতে ফোন ব্যবহারের সময় ‘ডার্ক মোড’ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর। 

এটি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর হালকা রঙের লেখা প্রদর্শন করে স্ক্রিনের অতিরিক্ত ঝলকানি কমিয়ে দেয়। রাতের বেলা ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই এই মোডটিকে বেশি আরামদায়ক মনে করেন। 

৫. স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে দিন 

স্ক্রিন টাইমআউটের সময়সীমা কমিয়ে দিলে প্রয়োজন শেষে ফোনের ডিসপ্লেটি দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এটি যেমন আপনার চোখকে দীর্ঘক্ষণ অনাকাঙ্ক্ষিত স্ক্রিন এক্সপোজার থেকে রক্ষা করে, তেমনই ফোনের ব্যাটারির আয়ুও সাশ্রয় করে। 

সুস্থ চোখের জন্য কিছু অতিরিক্ত টিপস

শুধু ফোনের সেটিং পরিবর্তনই নয়, চোখ ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞদের এই নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত:

২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন: প্রতি ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর, অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকুন।

ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন: একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়, তাই ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন।

সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন: ফোন সবসময় আপনার মুখ থেকে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরে রাখুন। 

সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: ঘরের আলো পুরোপুরি বন্ধ করে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফোন চালানো চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

নিয়মিত বিরতি নিন: একটানা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করে মাঝে মধ্যে ছোট ছোট বিরতি নিন। 

যদিও এই সেটিং বা নিয়মগুলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না, তবে এগুলো দৈনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। 

সূত্র: সামা টিভি 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow