রাবি শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার বড় কারণ ইন্টারনেট আসক্তি : গবেষণা
গভীর রাত পেরিয়ে ভোর হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অনেক আবাসিক হলের কক্ষের আলো নিভে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা, অনলাইন গেম খেলা কিংবা দীর্ঘসময় স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকাই যেন অনেক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর এই অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক গবেষণায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট আসক্তিতে ভুগছেন এবং প্রায় অর্ধেকের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ এবং পড়াশোনার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের মার্চে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে ১ হাজার ১৪ জন স্নাতক শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট আসক্ত এবং ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ইন্টারনেট-আসক্ত শিক্ষার্থীদের
গভীর রাত পেরিয়ে ভোর হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অনেক আবাসিক হলের কক্ষের আলো নিভে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা, অনলাইন গেম খেলা কিংবা দীর্ঘসময় স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকাই যেন অনেক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর এই অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক গবেষণায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট আসক্তিতে ভুগছেন এবং প্রায় অর্ধেকের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ এবং পড়াশোনার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২০২৬ সালের মার্চে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে ১ হাজার ১৪ জন স্নাতক শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট আসক্ত এবং ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ইন্টারনেট-আসক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছেন। যারা ইন্টারনেট আসক্ত নন, তাদের তুলনায় আসক্ত শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
গবেষণার প্রধান লেখক ও রাবির জনসংখ্যা বিজ্ঞান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘রাবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়ও বেশি। ভারতের চণ্ডীগড়ে যেখানে এই হার ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩০ শতাংশ— সেখানে রাবিতে তা অনেক বেশি উদ্বেগজনক।’
গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা এখনো সীমিত বলেই জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞরা।
সাক্ষাৎকারে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনার বাইরেও তারা প্রতিদিন ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অনলাইনে সময় কাটান। ফলে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবাসিক হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রথমে এটা শুধু বিনোদন ছিল। এখন ভোর পর্যন্ত ছোট ভিডিও দেখি, সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকি। পরীক্ষার সময়ও ফোন চেক না করে থাকতে পারি না।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের জীবন দেখে সবসময় নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে হয়। পরিবার, পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে একধরনের চাপ সবসময় কাজ করে।’
শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীকে এখন ঘুমবঞ্চিত, মানসিকভাবে অস্থির এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী মনে হয়। সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও বাড়ছে।’
রাবি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. এনামুল হক বলেন, ‘পড়াশোনার চাপ, বেকারত্বের শঙ্কা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের মানসিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত সম্পদ নিয়েই কেন্দ্রটিতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় পেশাদার মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
গবেষণায় গভীর রাতে ইন্টারনেট ব্যবহারকে বিষণ্নতার অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম ওজনের শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নয়; বরং দেশের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের বড় একটি প্রতিচ্ছবি।
গবেষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য কাউন্সেলিং সেবা চালুর সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
What's Your Reaction?