রামিসা হত্যার বিচার : বাতিল হতে পারে শিশু ট্রাইব্যুনালের ছুটি

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল হতে পারে। ট্রাইব্যুনালটির বিচারক হলেন মাসরুর সেলেকীন। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রোববার (২৪ মে) দুপুরে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।  পিপি ফারুকী জানান, ‘সরকার রামিসার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দ্রুতই মামলাটির বিচারকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাল থেকে ঈদুল আজহা ও পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নিম্ন আদালতগুলো অবকাশকালীন ছুটিতে যাচ্ছে। তবে রামিসার বিচার দ্রুত শেষ করতে ঈদের ছুটির পর শিশু ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিলের এক আলোচনা চলছে। তবে আদেশ না আশা পর্যন্ত সঠিক বলা যাচ্ছে না’। এদিকে এদিন কারাগারে থাকা আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছে। আজ মামলাটির চার্জশিট উপস্থাপন, বিচারের জন্য বদলি শেষে চার্জগঠনের মাধ্যমে আজই বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা। গত ২০ মে এ মামলায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মূল

রামিসা হত্যার বিচার : বাতিল হতে পারে শিশু ট্রাইব্যুনালের ছুটি
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল হতে পারে। ট্রাইব্যুনালটির বিচারক হলেন মাসরুর সেলেকীন। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে রোববার (২৪ মে) দুপুরে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।  পিপি ফারুকী জানান, ‘সরকার রামিসার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দ্রুতই মামলাটির বিচারকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাল থেকে ঈদুল আজহা ও পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নিম্ন আদালতগুলো অবকাশকালীন ছুটিতে যাচ্ছে। তবে রামিসার বিচার দ্রুত শেষ করতে ঈদের ছুটির পর শিশু ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিলের এক আলোচনা চলছে। তবে আদেশ না আশা পর্যন্ত সঠিক বলা যাচ্ছে না’। এদিকে এদিন কারাগারে থাকা আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছে। আজ মামলাটির চার্জশিট উপস্থাপন, বিচারের জন্য বদলি শেষে চার্জগঠনের মাধ্যমে আজই বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা। গত ২০ মে এ মামলায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মূল আসামি সোহেল রানা। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ওইদিন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।  আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে সোহেল যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা রেকর্ডের বিষয়ে আদালতে করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল। আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। অন্য দিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ওইদিনই বাসা থেকে স্বপ্নাকে ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow