রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনা, যে বিষয়ে অগ্রগতি
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই এ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে এতে দুই দেশই ১৫৭ জন করে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, বন্দি বিনিময় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খবর আলজাজিরার। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, শান্তি আলোচনায় এখনো ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বাকি রয়েছে। তবে বন্দি বিনিময় প্রমাণ করে যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাস্তব ফল দিচ্ছে এবং যুদ্ধ অবসানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই মধ্যস্থতাকারী দলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও ছিলেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, দুই পক্ষ ২০২১ সাল থেকে স্থগিত থাকা উচ্চপর্যায়ের সামরিক-থেকে-সামরিক সংলাপ পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে স্থা
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই এ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে এতে দুই দেশই ১৫৭ জন করে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, বন্দি বিনিময় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, শান্তি আলোচনায় এখনো ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বাকি রয়েছে। তবে বন্দি বিনিময় প্রমাণ করে যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাস্তব ফল দিচ্ছে এবং যুদ্ধ অবসানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই মধ্যস্থতাকারী দলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও ছিলেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, দুই পক্ষ ২০২১ সাল থেকে স্থগিত থাকা উচ্চপর্যায়ের সামরিক-থেকে-সামরিক সংলাপ পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে ধারাবাহিক সামরিক সংলাপ নিশ্চিত করবে বলে জানানো হয়।
রাশিয়ার আলোচক কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও সঠিক পথে এগোচ্ছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে সক্রিয় কাজ চলছে। তবে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে আলোচনায় ‘হস্তক্ষেপ ও বিঘ্ন ঘটানোর’ অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বলেন, প্রক্রিয়াটি সহজ নয়, তবুও ইউক্রেন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। কিয়েভে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা দ্রুত ফল চাই।
গত জানুয়ারির শেষ দিকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় ভূখণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালেও কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া জানায়, দুই দেশই ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে। এছাড়া রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে তিন বেসামরিক নাগরিকও ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কিরিলো বুদানোভ জানান, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৯ জনকে অবৈধভাবে দণ্ডিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৫ জনের সাজা ছিল যাবজ্জীবন। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার দমিত্রো লুবিনেতস।
আলোচনার মধ্যেও যুদ্ধ থামেনি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাতে রুশ ড্রোন হামলায় দুই বৃদ্ধ নারী আহত হন এবং আবাসিক ভবন, একটি অফিস ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিয়েভ অঞ্চলেও একজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাশিয়া রাতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮৩টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৫৬টি ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ হামলায় কিয়েভের বহু আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র মেরামতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান ক্লিচকো।
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের দ্রুঝকিভকা শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে ক্লাস্টার বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৮১ বছর।
What's Your Reaction?