রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত মৃদুল, দাবি পরিবারের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মৃদুল খান (২২) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। মৃদুল উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের পাছচারান গ্রামের সাঈদ খানের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত শনিবার (২০ জুন) রাতে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় মৃদুলের মৃত্যু হয়। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় তারা এ খবর জানতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা কূটনৈতিক সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের বাবা সাঈদ খান জানান, উন্নত জীবনের আশায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গরুর খামারে কাজ করার উদ্দেশে রাশিয়ায় যান মৃদুল। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সাঈদ খান আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ায় থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি য

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত মৃদুল, দাবি পরিবারের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মৃদুল খান (২২) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। মৃদুল উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের পাছচারান গ্রামের সাঈদ খানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত শনিবার (২০ জুন) রাতে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় মৃদুলের মৃত্যু হয়। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় তারা এ খবর জানতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা কূটনৈতিক সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা সাঈদ খান জানান, উন্নত জীবনের আশায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গরুর খামারে কাজ করার উদ্দেশে রাশিয়ায় যান মৃদুল। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সাঈদ খান আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, রাশিয়ায় থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি যুবককে অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ায় অবস্থানরত এবং আমার ছেলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা এলেঙ্গার মৃদুল হাসান ও জয় নামের দুই যুবক আমাকে মুঠোফোনে মৃদুলের মৃত্যুর খবর জানায়। এখন সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

মঙ্গলবার বিকেলে মৃদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মা মায়া বেগম বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করেন।

এদিকে মৃদুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে বিদেশে যাওয়া এক তরুণের এমন পরিণতির খবরে তারা মর্মাহত। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

কোকডহরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউর রহমান খান শাফী জানান, মৃদুলকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানোর খবর আসলে মৃদুলের বাবা আমাকে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েছিল।'

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি তথ্য আসেনি।’

কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। তবে সরকারিভাবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow