ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চালানো এই হামলায় শহরের কেন্দ্রীয় অংশও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যা তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া একসঙ্গে ৫৯৮টি ড্রোন ও ডিকয় এবং ৩১ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটি এখন পর্যন্ত যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম বিমানহামলা।
নিহতদের মধ্যে ২, ১৪ ও ১৭ বছর বয়সী তিন শিশুও রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন>>
- রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ইউক্রেনের
- ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার পারমাণবিক স্থাপনায় আগুন
- ডনবাস ছাড়ো, ন্যাটোর কথা ভুলে যাও : ইউক্রেনকে পুতিন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বলেন, রাশিয়া আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে ব্যালিস্টিক বেছে নিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, যারা শান্তির ডাক দিয়েছেন অথচ এখন চুপ রয়েছেন, তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার সময় এসেছে।
হামলায় কিয়েভের সাতটি জেলার অন্তত ২০টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১০০ ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি শপিং মলসহ শহরের কেন্দ্রীয় অবকাঠামো। হাজারও জানালা ভেঙে পড়েছে। দারনিৎসকি জেলায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন সরাসরি আঘাতে ভেঙে পড়েছে। সেখানে এখনো অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, কিয়েভ ও ভিন্নিত্সিয়া অঞ্চলে রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, একই রাতে ইউক্রেনের পাঠানো ১০২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের আফিপস্কি তেল শোধনাগার ও সামারা অঞ্চলের নভোকুইবিশেভস্ক শোধনাগারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলাস্কায় বৈঠক করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তবে এরপরও শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
জেলেনস্কি বৃহস্পতিবারের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে যাতে মস্কোকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করা যায়।
সূত্র: এপি
কেএএ/