‘রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত বলে মনে করে মস্কো। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে একাধিক প্রশ্ন পাঠিয়ে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রাশিয়া টোয়েন্টি-ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহসহ রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন,আমরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মন্তব্য চেয়ে একাধিক প্রশ্ন পাঠিয়েছি। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার গভীরে হামলা সংগঠিত ও পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও গভীর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও রয়েছে। আমরা জবাবের অপেক্ষায় আছি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা থেকে সরে যায়। লাভরভ বলেন, এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব সমর্থন কর

‘রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত বলে মনে করে মস্কো। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে একাধিক প্রশ্ন পাঠিয়ে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রাশিয়া টোয়েন্টি-ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহসহ রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন,আমরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মন্তব্য চেয়ে একাধিক প্রশ্ন পাঠিয়েছি। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার গভীরে হামলা সংগঠিত ও পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও গভীর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও রয়েছে। আমরা জবাবের অপেক্ষায় আছি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা থেকে সরে যায়। লাভরভ বলেন, এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব সমর্থন করতে প্রস্তুত। পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, ‘ডোনাল্ড, তুমি আমাদের কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছিলে। আমি সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। কিছু বিষয়ে সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তুমি যেভাবে প্রস্তাবগুলো পাঠিয়েছ, আমি সেভাবেই সেগুলো গ্রহণ করছি।’ তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের কোনো সমঝোতা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি হয়ে থাকলে এতদিনে যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত। লাভরভ আরও বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের দূতেরা আবার রাশিয়ায় এলে তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পুতিন। তবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, তারা সঙ্গে করে কী নিয়ে আসবেন।’ এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করা পশ্চিমা অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন লাভরভ। তিনি বলেন, ‘কিয়েভের যুদ্ধযন্ত্রকে পশ্চিমা সহায়তায় যারা চালু রাখছে, সেসব সরবরাহ ধ্বংস করতে আমরা আমাদের পদ্ধতি আরও কঠোর করব। আমরা ইতোমধ্যেই তা করছি।’ যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ালেও ইউক্রেন পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পেয়ে যাচ্ছে। তবে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতির মুখে রয়েছে। রুশ হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার বাড়তে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া প্রয়োজন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পেলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে। জেলেনস্কি বলেন, আমাদের কাছে ৫ শতাংশ বিক্রি করুন, আমরা শীত পার করতে পারব এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে পারব। তারা যদি ১০ শতাংশ দিতে পারে, তাহলে আমরা রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারব। আমার কাছে আছে ১ শতাংশ। সূত্র : রয়টার্স

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow