রাষ্ট্রকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে চাই : তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘আমাদের এই বাংলাদেশে নানা সংকটের মূল কারণ হচ্ছে, আমরা এই রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে পারিনি। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষমতা বেড়ে যায় তখন সেটা আর প্রতিষ্ঠান থাকে না। কারণ প্রতিটি ব্যক্তির আয়ু ক্ষণস্থায়ী, তার ক্ষমতাও ক্ষণস্থায়ী। গত ৫৫ বছরের বাংলাদেশে আমরা সেটা দেখেছি। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকেও আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় নিয়ে আসতে চাই। সেই কাজে যে ব্যত্যয়গুলি ঘটেছে আপনারা তা চিহ্নিত করবেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল সোয়া ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি প্রতিষ্ঠান। আমি জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘আমাদের এই বাংলাদেশে নানা সংকটের মূল কারণ হচ্ছে, আমরা এই রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে পারিনি। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষমতা বেড়ে যায় তখন সেটা আর প্রতিষ্ঠান থাকে না। কারণ প্রতিটি ব্যক্তির আয়ু ক্ষণস্থায়ী, তার ক্ষমতাও ক্ষণস্থায়ী।
গত ৫৫ বছরের বাংলাদেশে আমরা সেটা দেখেছি। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকেও আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় নিয়ে আসতে চাই। সেই কাজে যে ব্যত্যয়গুলি ঘটেছে আপনারা তা চিহ্নিত করবেন।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল সোয়া ৩টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি প্রতিষ্ঠান। আমি জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠানে যাই। ক্লাব পরিচালনার একটা নিয়মকানুন আছে। তা নিয়ে তর্ক হয়, বিতর্ক হয়, আবার সেটা নিয়মের মধ্যেই সমাধান করতে হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিচালনায় যে ব্যত্যয়গুলি ঘটেছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। আমি অনতিবিলম্বে এই চট্টগ্রামের মুরুব্বি, আমাদের সকলের নেতা, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে পরামর্শ করে আপনাদের মধ্যে থেকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় ডাকব। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্ভূত সমস্যার সমাধান অবশ্যই করব, ইনশাআল্লাহ।
মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিচালনা নিয়ে যে সমস্যা, সেই সমস্যা গঠনতান্ত্রিক বিধিবিধানের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে গঠনতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধানে আমি সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, আমি কথা দিচ্ছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। সব মত, সব চিন্তা নিয়ে সবাইকে মিলে একটা প্রেস ক্লাবেই থাকতে হবে– এটাই আসল সত্য।’
শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাংবাদিক নামধারী কতিপয় দুর্বৃত্ত হামলা ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দখল করে। পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকবিহীন চিঠির মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়, গঠন করা হয় অবৈধ অন্তর্বর্তী কমিটি। পরে শতাধিক অপেশাদার, মামলার আসামি ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত ভুয়া সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়। গত দেড় বছর ধরে দখলদাররা প্রেস ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রশাসন জুয়ার আসর বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে প্রেস ক্লাবের ২৮৪ জন সদস্যের মধ্যে ৯০ শতাংশ সদস্য ক্লাবে যেতে পারছেন না।’
প্রেস ক্লাব সভাপতি তথ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা চাই, গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচন দেওয়া হোক। স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, দাবি একটাই, প্রেসক্লাব জিম্মি মুক্ত করে পেশাদার সাংবাদিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের তালাবদ্ধ কার্যালয় খুলে দেওয়া হোক।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম, সদস্য মোয়াজ্জেমুল হক, জসীম চৌধুরী সবুজ, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম সম্পাদক মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, যুগ্ম সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আহসান হাবিবুল আলম।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক যিশু রায় চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক পূর্বকোণের সিটি এডিটর নওশের আলী খান, অঞ্জন সেন, এম নাসিরুল হক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন প্রমুখ।
What's Your Reaction?