‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এটা সম্মানের’

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পিকার সংবাদ সম্মেলনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ঘটনায় বিএনপি তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও দলটির নেতাদের বক্তব্যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এটা সম্মানের। এটা ভালো হয়েছে। আজকাল তো মানুষ পদত্যাগ করতে চায় না। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় খুবই ইন্টারেস্টিং, এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার—তিনটি সরকারকেই শপথ পড়িয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এখন তার পদত্যাগের মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।’ আরও পড়ুন পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এটা সম্মানের’

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পিকার সংবাদ সম্মেলনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ঘটনায় বিএনপি তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও দলটির নেতাদের বক্তব্যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এটা সম্মানের। এটা ভালো হয়েছে। আজকাল তো মানুষ পদত্যাগ করতে চায় না। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় খুবই ইন্টারেস্টিং, এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার—তিনটি সরকারকেই শপথ পড়িয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এখন তার পদত্যাগের মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের ফলে যে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক বিধিবিধানের অংশ।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সে সময় সংসদের স্পিকারও পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এক ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ও স্পিকার থাকায় সেই শূন্যতা আর নেই। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্পিকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির সাংবিধানিক মীমাংসা হয়েছে।’

এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, একই ব্যক্তির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর তার পদত্যাগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এদিন বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’সহ পাঁচ ধরনের রোগে ভুগছেন। এ কারণে মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে যান। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে।

রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

কেএইচ/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow