রাস্পবেরির সঙ্গে জন্ম-মৃত্যু, ছোট্ট শহরের বিশ্বজয়

সার্বিয়ার একটি ছোট্ট শহর আরিলিয়ে। তবে এর পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। এই শহরটিকে বলকান অঞ্চলের ‘রাস্পবেরি রাজধানী’ বলা হয়। এখানকার রাস্পবেরির খ্যাতি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। আরিলিয়ে এবং এর আশপাশের এলাকায় উৎপাদিত রাস্পবেরি দূরবর্তী দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান অন্যতম। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রাস্পবেরি রপ্তানিতে শীর্ষ তিনটি দেশের একটি সার্বিয়া। আর সার্বিয়ার মোট রাস্পবেরি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশের জোগান দেয় আরিলিয়ে। স্থানীয় রাস্পবেরি চাষি সমিতির প্রধান মিলেতা পিলচেভিচ বলেন, ‘আমরা রাস্পবেরির সঙ্গেই জন্মাই, বাঁচি এবং মারা যাই। আরিলিয়ে বিশ্বের মধ্যে অনন্য। ছোট জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ রাস্পবেরি উৎপাদন আর কোথাও পাবেন না।’ রাস্পবেরির জন্য আদর্শ পরিবেশ আরিলিয়ের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং আবহাওয়া রাস্পবেরি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখানকার রাস্পবেরি কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদন করা হয়। ফল সংগ্রহও করা হয় হাতে। আরিলিয়ে শহরে রাস্পবেরি চাষ/ ছবি: এপি-ইউএনবি উৎপাদকদের মতে, উচ্চমানের রাস্পবেরির স্বাদ, ঘ্রাণ ও গুণগত মান ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজ

রাস্পবেরির সঙ্গে জন্ম-মৃত্যু, ছোট্ট শহরের বিশ্বজয়

সার্বিয়ার একটি ছোট্ট শহর আরিলিয়ে। তবে এর পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। এই শহরটিকে বলকান অঞ্চলের ‘রাস্পবেরি রাজধানী’ বলা হয়। এখানকার রাস্পবেরির খ্যাতি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।

আরিলিয়ে এবং এর আশপাশের এলাকায় উৎপাদিত রাস্পবেরি দূরবর্তী দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান অন্যতম। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রাস্পবেরি রপ্তানিতে শীর্ষ তিনটি দেশের একটি সার্বিয়া। আর সার্বিয়ার মোট রাস্পবেরি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশের জোগান দেয় আরিলিয়ে।

স্থানীয় রাস্পবেরি চাষি সমিতির প্রধান মিলেতা পিলচেভিচ বলেন, ‘আমরা রাস্পবেরির সঙ্গেই জন্মাই, বাঁচি এবং মারা যাই। আরিলিয়ে বিশ্বের মধ্যে অনন্য। ছোট জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ রাস্পবেরি উৎপাদন আর কোথাও পাবেন না।’

রাস্পবেরির জন্য আদর্শ পরিবেশ

আরিলিয়ের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং আবহাওয়া রাস্পবেরি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখানকার রাস্পবেরি কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদন করা হয়। ফল সংগ্রহও করা হয় হাতে।

serbiaআরিলিয়ে শহরে রাস্পবেরি চাষ/ ছবি: এপি-ইউএনবি

উৎপাদকদের মতে, উচ্চমানের রাস্পবেরির স্বাদ, ঘ্রাণ ও গুণগত মান ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। একটি রাস্পবেরি ক্ষেত পূর্ণ উৎপাদনে যেতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগে।

পিলচেভিচ বলেন, যন্ত্র বা রাসায়নিক দিয়ে কিছুই করা যায় না। সবকিছুই যত্ন নিয়ে করতে হয়।

পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে রাস্পবেরি চাষ

আরিলিয়ের বেশিরভাগ রাস্পবেরি ক্ষেত কয়েক প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর এসব ক্ষেত থেকে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টন রাস্পবেরি উৎপাদন হয়।

গ্রীষ্মের শুরুতে রাস্পবেরি সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলে বিপুলসংখ্যক মৌসুমি শ্রমিক সেখানে কাজ করতে আসেন। শুধু সার্বিয়া নয়, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও শ্রমিক আসেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উৎপাদকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা নাদা মারিনকোভিচ বলেন, আগাছা পরিষ্কার থেকে শুরু করে ক্ষেতের সব কাজই হাতে করতে হয়। তার কথায়, ‘রাস্পবেরি তোলা খুব কঠিন নয়, তবে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়।’

রপ্তানি হয় বিভিন্ন দেশে

সার্বিয়ার উৎপাদিত রাস্পবেরির প্রায় ৯০ শতাংশ হিমায়িত অবস্থায় রপ্তানি করা হয়। বাকি অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়।

serbia
রাস্পবেরি/ ছবি: এপি-ইউএনবি

হিমায়িত রাস্পবেরি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া জ্যাম, দই, বেকারি পণ্য ও খুচরা ফলের বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে।

কিছু উৎপাদক সরাসরি অনলাইনেও রাস্পবেরি ও প্রাকৃতিক ফলের রস বিক্রি করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

এ বছর সার্বিয়ার রাস্পবেরি উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ গত বছরের খরা।

উৎপাদকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা রাস্পবেরি চাষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে। পাশাপাশি বাজারমূল্যের অস্থিরতাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিলচেভিচ বলেন, অনেক সময় রাস্পবেরির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা উৎপাদন খরচ মেটানোর জন্যও যথেষ্ট হয় না। ফলে কৃষকরা লাভ তো দূরের কথা, অতিরিক্ত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও হারাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে অতীতেও আরিলিয়ের কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পিলচেভিচ বলেন, আমাদের কাজ রাস্তায় নয়, বাগানে। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা আবারও রাস্তায় নামব।

সূত্র: এপি
কেএএ/ এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow