রিটের শুনানির আগে নুসরাতের গেজেট স্থগিত চান মনিরা
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীতা নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার মধ্যে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার দায়ের করা রিটের শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। রোববার (৩ মে) ইসিতে এ সংক্রান্ত করা মনিরা শারমিনের আবেদন থেকে বিষয়টি জানা যায়। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। অতঃপর গত ২৩ এপ্রিল বেআইনিভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত হয়ে আমি নির্বাচনী আপিল নং-১/২৬ দায়ের করি। অতঃপর আমার আপিল মামলাটিও বেআইনিভাবে ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার ২৩ এপ্রিলের আদেশ এবং ২৭ এপ্রিল আপিল আদেশের বিরুদ্ধে আমি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করি (রিট নং-৫৪৬১/২৬)। ওই রিট মামলাটি আগামীকাল ৪ মে' হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীতা নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার মধ্যে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার দায়ের করা রিটের শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত।
রোববার (৩ মে) ইসিতে এ সংক্রান্ত করা মনিরা শারমিনের আবেদন থেকে বিষয়টি জানা যায়।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। অতঃপর গত ২৩ এপ্রিল বেআইনিভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত হয়ে আমি নির্বাচনী আপিল নং-১/২৬ দায়ের করি। অতঃপর আমার আপিল মামলাটিও বেআইনিভাবে ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার ২৩ এপ্রিলের আদেশ এবং ২৭ এপ্রিল আপিল আদেশের বিরুদ্ধে আমি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করি (রিট নং-৫৪৬১/২৬)। ওই রিট মামলাটি আগামীকাল ৪ মে' হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চের শুনানি হবে।
অতএব উক্ত মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া আবশ্যক। যেহেতু আমার দল প্রথমে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদশের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবো।
এই অবস্থায় তিনি চিঠিতে রিট মামলাটি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত নারী আসনের অন্য প্রার্থীর যেন কোনো গেজেট না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
মনিরা শারমিন সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়ে যেতে পারে, ২১ এপ্রিল (মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন) নানা মহলে আলোচনার সূচনা হলে ওইদিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোট থেকে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও দাখিল করা হয়। তবে সময়ের পরে দাখিল করায় তা গ্রহণ করা বিরত থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়ণপত্রও বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে হাইকোর্টে রিট করেন নুসরাত। শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনায় দেয়। সে অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা শনিবার বাছাই করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। রোববার সে অনুযায়ী, বৈধ প্রার্থী হিসেবে নুসরাতের তালিকাও প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, মনিরারর রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বললে আসনটি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভোট দিয়ে দুই প্রার্থীর একজনকে বেছে নিতে পারবেন। আর খারিজ করে দিলে নুসরাত যাবেন সংসদে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোট একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বন্টন করে দেয়। কিন্তু নুসরাত-মনিরার আসনটি ব্যতিত বাকি ৪৯টিতে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
What's Your Reaction?