রিয়াদে পরিত্যক্ত কক্ষে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, লাশ দেশে আনতে স্বজনদের আকুতি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলার পরিত্যক্ত কক্ষে স্ট্রোকে মারা গেছেন মো. শান্ত আহমেদ (২৩) নামে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর (প্রকাশ ছুপুয়া) গ্রামের ওমানপ্রবাসী আবদুল কাদেরের একমাত্র ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ফরহাদ হাজারী। জানা গেছে, উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত বছরের ২৩ মে সৌদি আরবে যান শান্ত আহমেদ। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার মা শেফালী বেগম বিদেশে পাঠাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে ছেলের ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন বাবা-মা। সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তিনি কর্মসংকটে ছিলেন। সর্বশেষ চার দিন আগে রিয়াদের আল আরিদ এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন। ওই হোটেলের নিচতলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষেই তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুক্রবার ভোরে ওই কক্ষেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্ত। খবর পেয়ে সৌদি পুলিশের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, স্ট্রোকে তার মৃত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলার পরিত্যক্ত কক্ষে স্ট্রোকে মারা গেছেন মো. শান্ত আহমেদ (২৩) নামে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর (প্রকাশ ছুপুয়া) গ্রামের ওমানপ্রবাসী আবদুল কাদেরের একমাত্র ছেলে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ফরহাদ হাজারী।
জানা গেছে, উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত বছরের ২৩ মে সৌদি আরবে যান শান্ত আহমেদ। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার মা শেফালী বেগম বিদেশে পাঠাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে ছেলের ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন বাবা-মা।
সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তিনি কর্মসংকটে ছিলেন। সর্বশেষ চার দিন আগে রিয়াদের আল আরিদ এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন। ওই হোটেলের নিচতলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষেই তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শুক্রবার ভোরে ওই কক্ষেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্ত। খবর পেয়ে সৌদি পুলিশের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে রিয়াদে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর অভিযোগ, যে কক্ষে শান্তকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুৎ চলে গেলে কক্ষটি প্রায় বদ্ধ হয়ে পড়ত এবং সেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যেত। তাদের দাবি, এমন পরিবেশে থাকার কারণে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা কক্ষের পরিবেশের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ফরহাদ হাজারী জানান, প্রবাসী ইমাম হোসাইনের নেতৃত্বে একটি টিম শান্ত আহমেদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
এদিকে শান্তর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা ও দুই বোন। ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফনের জন্য রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের মা শেফালী বেগম, বাবা আবদুল কাদেরসহ পরিবারের সদস্যরা।
What's Your Reaction?