রিয়াল মাদ্রিদে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা মরিনহোর, চান চারটি পরিবর্তন

এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেয়া প্রায় নিশ্চিত। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দুই মৌসুম শিরোপাশূন্য থাকার পর রিয়ালকে আবার ইউরোপের সেরা আসনে ফেরাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে নতুন খেলোয়াড় চান মরিনহো। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ ক্লাব কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সফলতার পথে ফিরতে হলে আগে দলকে রক্ষণ, মিডফিল্ড এবং মানসিকতার দিক থেকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে সেন্টার-ব্যাক, রাইট-ব্যাক, লেফট-ব্যাক এবং মিডফিল্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন চান তিনি। রক্ষণভাগে বড় সার্জারি করবেন মরিনহো এএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিনহোর প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে রিয়ালের রক্ষণভাগ পুনর্গঠন করা। গত দুই মৌসুমে রিয়ালের ডিফেন্সে নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতার অভাব ছিল বলেই মনে করছেন তিনি। তাই আন্তোনিও রুডিগারের পাশে অন্তত একজন, সম্ভব হলে দুইজন বিশ্বমানের সেন্টার-ব্যাক আনার দাবি জানিয়েছেন। শুধু কেন্দ্রীয় রক্ষণ নয়, দুই পাশেও নতুন মুখ চান মরিনহো। রাইট-ব্যাকে ট্র

রিয়াল মাদ্রিদে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা মরিনহোর, চান চারটি পরিবর্তন

এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেয়া প্রায় নিশ্চিত। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দুই মৌসুম শিরোপাশূন্য থাকার পর রিয়ালকে আবার ইউরোপের সেরা আসনে ফেরাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে নতুন খেলোয়াড় চান মরিনহো।

৬৩ বছর বয়সী এই কোচ ক্লাব কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সফলতার পথে ফিরতে হলে আগে দলকে রক্ষণ, মিডফিল্ড এবং মানসিকতার দিক থেকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে সেন্টার-ব্যাক, রাইট-ব্যাক, লেফট-ব্যাক এবং মিডফিল্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন চান তিনি।

রক্ষণভাগে বড় সার্জারি করবেন মরিনহো

এএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিনহোর প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে রিয়ালের রক্ষণভাগ পুনর্গঠন করা। গত দুই মৌসুমে রিয়ালের ডিফেন্সে নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতার অভাব ছিল বলেই মনে করছেন তিনি। তাই আন্তোনিও রুডিগারের পাশে অন্তত একজন, সম্ভব হলে দুইজন বিশ্বমানের সেন্টার-ব্যাক আনার দাবি জানিয়েছেন।

শুধু কেন্দ্রীয় রক্ষণ নয়, দুই পাশেও নতুন মুখ চান মরিনহো। রাইট-ব্যাকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে নতুন খেলোয়াড় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান গার্সিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় লেফট-ব্যাকেও নতুন কাউকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই শক্ত রক্ষণভিত্তিক দল গড়ে সাফল্য পেয়েছেন মরিনহো। তাই তার নতুন পরিকল্পনায় ডিফেন্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মিডফিল্ডে চাই ‘স্টিল’ ও সৃজনশীলতা

রক্ষণভাগের পাশাপাশি মিডফিল্ডেও বড় পরিবর্তনের চিন্তা করছেন সাবেক চেলসি, ইন্টার মিলান ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ।

তিনি একদিকে একজন ক্লাসিক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার চান, যিনি রক্ষণকে সুরক্ষা দেবেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেবেন। মরিনহোর মতে, তার সফল দলগুলোর অন্যতম বড় শক্তি ছিল শক্তিশালী হোল্ডিং মিডফিল্ড।

অন্যদিকে আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি পূরণে একজন প্লে-মেকারও চান তিনি। এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি ছোট জায়গায় খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারবেন এবং লো-ব্লকের বিপক্ষে দলকে কার্যকর সমাধান দিতে পারবেন।

শুধু তারকা নয়, চাই যোদ্ধা মানসিকতা

রিয়ালের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পেছনে শুধুমাত্র ট্যাকটিক্যাল সমস্যা নয়, মানসিক দুর্বলতাও দেখছেন মরিনহো। তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বড় নামের খেলোয়াড় নয়, বরং এমন ফুটবলার দরকার যারা দলের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত থাকবে। মরিনহো চান এমন একটি ড্রেসিংরুম, যেখানে অহংকারের চেয়ে বেশি থাকবে জয়ের ক্ষুধা।

প্রতিবেদন বলছে, তিনি খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ফিটনেস, পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং মানসিক দৃঢ়তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

ভিনিসিয়ুসকে নিয়েও বড় চ্যালেঞ্জ

রিয়ালে ফিরলে মরিনহোর সামনে সবচেয়ে বড় আভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে সামলানো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুসের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মরিনহো। বিশেষ করে বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ান তারকার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

তাই নতুন মেয়াদে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখা মরিনহোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইতোমধ্যে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, খেলোয়াড়দের আচরণ ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। বিভিন্ন ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে।

প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সরাসরি পারফরম্যান্স দেখার পরই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন- কে থাকবেন আর কে দল ছাড়বেন।

ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে রিয়ালকে বের করে আনতে মরিনহোর কঠোর মানসিকতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow