রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে বিতর্ক—আসেনসিওকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান
রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদের কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ফুটবলের উত্তাপের চেয়ে বেশি জায়গা করে নিল এক বিতর্কিত মুহূর্ত। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে রাউল আসেনসিওকে লক্ষ্য করে গ্যালারিতে উঠেছিল আপত্তিকর স্লোগান, যার ফলে রেফারি খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন।
রিয়াল সোসিয়েদাদের ঘরের মাঠ রিয়ালে অ্যারেনায় প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রেফারি হোসে মারিয়া সানচেজ মার্তিনেজকে জানান, গ্যালারি থেকে আসেনসিওকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করা হচ্ছে ‘Asencio, die’ (আসেনসিও, মরে যাও)।
রেফারি তৎক্ষণাৎ স্পেনের ‘অ্যান্টি-হেট প্রটোকল’ কার্যকর করেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ধাপে স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিনে ও মাইকে ঘোষণা করা হয় ‘বর্ণবাদী, বিদেশি-বিদ্বেষী বা অসহিষ্ণু কোনো স্লোগান নয়। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখে দলকে সমর্থন করুন।"
আসেনসিওর বিরুদ্ধে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা গত বছরের জুনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনজন প্রাক্তন মাদ্রিদ অ্যাকাডেমি খেলোয়াড়ের তোলা একটি যৌন সম্পর্কিত ভিডিও তিনি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে এক নাবালিকা মেয়ের উপস্থিতি ছিল। কানারি দ্বীপপুঞ্জের আদালত এই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং সম্প্রতি বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার রায় দিয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসেনসিও মাঠে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং সেই সঙ্গে তিনি হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন। এই দুটি কারণেই কোচ তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ থেকে তুলে নেন এবং লুকাস ভাসকেজকে বদলি হিসেবে নামান।
‘ভিনিসিয়ুস রেফারির কাছে অভিযোগ করলে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়, এবং পরে আমি আসেনসিওকে তুলে নিই,’ আনচেলত্তি বলেন। ‘কারোই পছন্দ হবে না, যদি পুরো স্টেডিয়াম ‘মরে যাও’ বলে স্লোগান দেয়। সে হতাশ ছিল, তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে তাকে তুলে নেওয়াই ভালো।’
রিয়াল সোসিয়েদাদের অধিনায়ক মিকেল ওয়ারজাবাল বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন, ‘আমরা এমন ঘটনাকে সমর্থন করি না। কোনো অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর অন্য উপায় রয়েছে, কিন্তু এমনভাবে করা উচিত নয়।’
সোসিয়েদাদের কোচ ইমানল আলগুয়াসিলও সমর্থকদের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শ্লোগান শুনিনি, তবে যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তবে আমি এর নিন্দা জানাই। এটি আমাদের স্টেডিয়ামে ঘটুক বা অন্য কোথাও, এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।’
মাত্র ২২ বছর বয়সেই আসেনসিও রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়েছেন। চলতি মাসেই ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের দুই লেগেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্ক তাকে কতটা মানসিকভাবে প্রভাবিত করছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।
রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে জয় পেলেও এই বিতর্ক এখনো রয়ে গেল—স্প্যানিশ ফুটবলে আরেকটি নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে গেল রাতের ঘটনা। খেলার বাইরে থাকা এসব ঘটনা যখন মাঠের লড়াইকে ছাপিয়ে যায়, তখন ফুটবলের সৌন্দর্য কোথাও যেন হারিয়ে যায়।