রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল পাকিস্তান

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করল পাকিস্তান। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিনেই আজ দেখা মিলল এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের। যে লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে আসর শুরু করল সালমান আগার দল। জয়ের জন্য ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী ঘা, আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণে বোলাররা শুরুতেই রাখেন নিয়ন্ত্রণ। তবে পাওয়ারপ্লেতে নেদারল্যান্ডসও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ডাচদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত রান তুলতে চেয়েছিলেন মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও'ডাউড। লেভিট ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও ও’ডাউড থেমে যান ৫ রানে। ৩.১ ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্রুতই দ্বিতীয় ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। এরপর বাস ডি লিডি ও কলিন অ্যাকারম্যান মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। ডি লিড ২৫ বলে ৩০ এবং অ্যাকারম্যান ১৪ বলে ২০ রান করেন। তবে দু’জনই বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ছিলেন ইনিংসের স্তম্ভ। উইকেটকিপার-ব্যাটার ২৯ বলে ৩৭ রানের কার

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল পাকিস্তান
রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করল পাকিস্তান। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিনেই আজ দেখা মিলল এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের। যে লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে আসর শুরু করল সালমান আগার দল। জয়ের জন্য ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী ঘা, আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণে বোলাররা শুরুতেই রাখেন নিয়ন্ত্রণ। তবে পাওয়ারপ্লেতে নেদারল্যান্ডসও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ডাচদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত রান তুলতে চেয়েছিলেন মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও'ডাউড। লেভিট ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও ও’ডাউড থেমে যান ৫ রানে। ৩.১ ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্রুতই দ্বিতীয় ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। এরপর বাস ডি লিডি ও কলিন অ্যাকারম্যান মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। ডি লিড ২৫ বলে ৩০ এবং অ্যাকারম্যান ১৪ বলে ২০ রান করেন। তবে দু’জনই বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ছিলেন ইনিংসের স্তম্ভ। উইকেটকিপার-ব্যাটার ২৯ বলে ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৩ চার ও ১ ছক্কা। শেষদিকে আরিয়ান দত্ত ৮ বলে ১৩ রান করে স্কোর এগিয়ে নেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানেই গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল সালমান মির্জা, ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট। শেষদিকে চমক দেখান সাইম আইয়ুব, মাত্র ১ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে ডাচদের গতি থামিয়ে দেন। শাহিন শাহ আফ্রিদিও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১ উইকেট তুলে নেন। ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন। সাইম আইয়ুব ১৩ বলে ২৪ রানের ক্যামিও খেলেন, আর ফারহান ছিলেন আরও সাবলীল, ৩১ বলে ৪৭ রান, সঙ্গে ৪ চার ও ২ ছক্কা। ১১.১ ওভারে ফারহান আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ৯৮, ম্যাচ তখন পুরো নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সেখানেই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। উসমান খান শূন্য, বাবর আজম ১৫, শাদাব খান ৮ এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ৬ রান করে আউট হন। মিডল অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ১১৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ডাচ বোলাররা ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসেন। সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব নেন ফাহিম আশরাফ। অলরাউন্ডার মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন—২ চার ও ৩ ছক্কায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৬৩.৬৩, যা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। অন্যপ্রান্তে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫ রানে অপরাজিত থেকে দারুণ সাপোর্ট দেন। ১৯.৩ ওভারে জয়ের রান তুলে নেয় পাকিস্তান—রুদ্ধশ্বাস ৩ উইকেটের জয়। ডাচদের হয়ে পল ভ্যান মিকারেন ছিলেন সবচেয়ে সফল, ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট। আরিয়ান দত্তও নেন ২ উইকেট। রুলফ ভ্যান ডার মারভে, কাইল ক্লেইন ও লোগান ভ্যান বিক নেন ১টি করে উইকেট। বিশেষ করে মধ্য ওভারে তাদের শৃঙ্খল বোলিংই ম্যাচ জমিয়ে তোলে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow