রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সরছে না লালন শাহ সেতু
দীর্ঘ এক দশক ধরে অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশের, সূচনা হয়েছে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের। তবে দেশের জ্বালানি খাতে এত বড় সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কথা চাউর হয়েছে- ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে স্থানান্তর করা হচ্ছে লালন শাহ সেতু’। তবে এই তথ্য যে পুরোপুরি গুজব তা নিশ্চিত করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালন শাহ সেতু তো সরছেই না, বরং ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের অদূরে পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে লালন শাহ সেতু। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীকে (পাকশী) সংযোগকারী লালন শাহ সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থা প্রসারে অনেক অবদান রেখে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্যদিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ ঘটেছে বাংল
দীর্ঘ এক দশক ধরে অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশের, সূচনা হয়েছে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের।
তবে দেশের জ্বালানি খাতে এত বড় সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কথা চাউর হয়েছে- ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে স্থানান্তর করা হচ্ছে লালন শাহ সেতু’।
তবে এই তথ্য যে পুরোপুরি গুজব তা নিশ্চিত করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালন শাহ সেতু তো সরছেই না, বরং ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের অদূরে পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে লালন শাহ সেতু। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীকে (পাকশী) সংযোগকারী লালন শাহ সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থা প্রসারে অনেক অবদান রেখে চলেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্যদিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ ঘটেছে বাংলাদেশের/ফাইল ছবি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুপাড়ে গড়ে উঠেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে ব্যয়বহুল প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়েক্টর প্রযুক্তি। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লালন শাহ সেতু যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। সেতুটি সরানো হচ্ছে বলে যে কথা প্রচার হয়েছে তা গুজব, এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে রূপপুরের পাশের সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর-ঈশ্বরদী-নাটোর-বনপাড়া হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে এই সড়ক নির্মাণকাজ একেবারে প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। সড়কের ব্যয় ও অর্থ সংস্থানের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।- সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর
রূপপুরে রেলপথসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন করে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান, যা উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত বয়ে আনবে। এবার ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি রূপপুর হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেন নির্মাণ করা হবে। ফলে সরাসরি ঝিনাইদহ থেকে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা রুটে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
আরও পড়ুন
রূপপুরে দেওয়া হলো ইউরেনিয়াম, অপেক্ষা পারমাণবিক বিদ্যুতের
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ঘিরে সাজ সাজ রব
জ্বালানি লোডিং লাইসেন্স পেলো রূপপুর, ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহ
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, লালন শাহ সেতু যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। সেতুটি সরানো হচ্ছে বলে যে কথা প্রচার হয়েছে তা গুজব, এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে রূপপুরের পাশের সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর-ঈশ্বরদী-নাটোর-বনপাড়া হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে এই সড়ক নির্মাণকাজ একেবারে প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। সড়কের ব্যয় ও অর্থ সংস্থানের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সওজ বলছে, লালন শাহ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক ১০ মিটার। চীনের প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো সেতুটি নির্মাণ করে। এতে স্প্যান রয়েছে ১৭টি। ২০০৪ সালের ১৮ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটি যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন। সেতুটি চার লেন বিশিষ্ট। এর পূর্বপাশে অবস্থিত (পাকশী, ঈশ্বরদী, পাবনা) এবং পশ্চিম পাশে ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। সেতুটি নির্মাণের ফলে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। সেতুটি রেখেই ঝিনাইদহকে ঢাকার সঙ্গে ছয় লেনে যুক্ত করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের এই জ্বালানি লোডিং শেষ হতে সময় লাগবে ৪৫ দিন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই বা আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। এক বছর পর প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম/ফাইল ছবি
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইং) মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘লালন শাহ সেতু স্থানান্তরের খবরটি সঠিক নয়। এমন সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করিনি। তবে ঝিনাইদহ-ঈশ্বরদী-রূপপুর-নাটোর বনপাড়া হয়ে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। আমরা প্রথামিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরির কাজ চলমান।’
আরও পড়ুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় কমছে, বাড়ছে সুদ
রূপপুরে অস্বাভাবিক ব্যয়: শাস্তি পেলেন দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী
রূপপুর প্রকল্পের গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু
গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসময় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের এই জ্বালানি লোডিং শেষ হতে সময় লাগবে ৪৫ দিন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই বা আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। এক বছর পর প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
এমওএস/ইএ
What's Your Reaction?